প্রতিহিংসা নয়, জাতীয় ঐক্যই সমৃদ্ধ বাংলাদেশের চাবিকাঠি: প্রধানমন্ত্রী
সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতি পরিহার করে জাতীয় ঐক্য ও সহনশীলতার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে 'স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬' প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, "মতাদর্শের ভিন্নতা থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু সেই ভিন্নতা যেন কখনোই শত্রুতায় রূপ না নেয়।"
বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী জাতীয় নেতাদের অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে ইতিহাসের সত্যকে গ্রহণ করা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। ঐতিহাসিক সত্য অস্বীকার করাকে 'হীনমন্যতা' হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন, সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ না করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না।
শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, "জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা।" দেশের স্বার্থবিরোধী চক্রের ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় তিনি দেশবাসীকে অভ্যন্তরীণ বিভাজন এড়িয়ে চলার তাগিদ দেন।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, দুর্নীতি ও দুর্বল শাসন ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ নিয়েই বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। সরকারের প্রধান লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে: জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। অতীতের বিশৃঙ্খলা কাটিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও কর্মমুখী করা। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীর জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা।
বিশ্ববাজারের অস্থিরতা সত্ত্বেও দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে সরকার কাজ করছে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও জনগণের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে সরকার ভর্তুকি অব্যাহত রেখেছে। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি এবং 'জুলাই সনদ'-এর প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর।
এ বছর মুক্তিযুদ্ধ, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, শিক্ষা ও জনসেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তাঁদের এই অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্য শেষ করেন একটি স্বনির্ভর ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে, যেখানে প্রতিহিংসার বদলে সম্মিলিত প্রচেষ্টাই হবে মূল চালিকাশক্তি।
Comments