নাহিদ ইসলাম কেন ড. ইউনূসকে রাজপথে নামতে বলছেন?
আমাদের সবারই মনে আছে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেক হাসিনার আওযামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অন্তবর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন শান্তিতে নোবেল জয়ী অধ্যাপক ড. মোগাম্মদ ইউনূস। তিনি প্যারিস থেকে যখন ফিরে আসেন, বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান গণ-অভ্যুথ্যানের সামনের সারির ছাত্র নেতারা।
এর পর ২৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাসনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছিলেন- তিনি ছাত্রদের আহ্বানে এসেছেন এবং ছাত্ররাই তার প্রাথমিক নিয়োগকর্তা।
এই এক বার্তা সরকারের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি মনে রেখেছেন। ছাত্রনেতাদের ব্যাপারে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। ছাত্র নেতারা দল করবেন, তাদের মধ্যে অনেকে মন্ত্রী হবেন – বিদেশি সংবাদ মাধ্যমকে এমনটা বলেছেন। এবং ছাত্রদের দল এনসিপি হয়েছে, মন্ত্রী না হলেও জামাতে ইসলামির সাথে নির্বাচনী জোট গড়ে তাদের কয়েকজন এমপিও হয়েছেন। এর মধ্যে বিরোধি দলের চিফ হুইপ হয়েছেন এনসিপি আহবায়ক নাহিদ ইসলাম।
কিন্তু হঠাৎ করেই নাহিদ ইসলামের কন্ঠে যেন কিছুটা ইউনূস বিরোধী ক্ষোভ প্রকাশিত হয়েছে। পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে শনিবার হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে নেমে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নাহিদ বলেন - বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের অর্জন ধরে রাখতে হলে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সব উপদেষ্টাদের মাঠে নামতে হবে। বিশেষ করে অনেকগুলো অধ্যাদেশ বিএনপি সরকার বাতিল বিষয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এ পর্যন্ত শুনলে তেমন কিছু মনে হয় না। কিন্তু নাহিদ বড় অভিযোগ এনেছেন ড.ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে। বলছেন - 'যারা অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বে ছিলেন ড. ইউনূস,আসিফ নজরুলসহ উপদেষ্টাদের দায়িত্ব নিতে হবে। তারা এই অধ্যাদেশগুলো করেছিলেন। এখন যে বাতিল হচ্ছে,এগুলো নিয়ে তাদের কথা বলতে হবে। ড. ইউনূসকে মুখ খুলতে হবে। তারা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে বিএনপির হাতে ক্ষমতা দিয়ে চলে গেছে। এখন এই অধ্যাদেশগুলো বাতিল হয়ে যাবে,সংস্কার হবে না,তারা কোনো কথা বলবে না,ক্যারিয়ারে ফিরে যাবে-এটা হবে না। জনগণের কাঠগড়ায় তাদের দাঁড়াতে হবে।'
নাহিদ ইসলাম ওমরাহ করে দেশে ফিরেই যে তপ্ত নিশ্বাস ছাড়লেন,তাতে তো ড. ইউনূসের এখন সাড়া দেওয়া দরকার। ভাবা যায়? যাকে ছাত্ররা ভালোবেসে,রক্ত দিয়ে অর্জিত বিপ্লবের গদিতে বসালেন,সেই 'নিয়োগকর্তা'দেরই নাকি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে হারিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠল!
প্রসঙ্গটা সংস্কারের। বিএনপি ইউনুস সরকারের প্রস্তাবিত সংস্কার কতটুকু রাখবে বা রাখবে না। কিন্তু নাহিদ ইসলামের অভিযোগ বলছে, ইউনূস সাহেব নাকি ভেতরে ভেতরে 'ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং'-এর এমন এক জাদুকরী কলকাঠি নেড়েছেন যে,সংস্কারের ফাইলগুলো এখন উপেক্ষিত আর ক্ষমতার চাবিটা খুব যত্ন করে বিএনপির পকেটে।
ছাত্রনেতারা ভাবলেন তারা দেশটা মেরামত করবেন,আর নোবেল বিজয়ী নাকি সুচারুভাবে নীলনকশা বাস্তবায়ন করে মুচকি হেসে বিদায় নিলেন। এখন এ অবস্থাকে কি বলা যাবে?
তবে অধ্যাপক ইউনূস কোন কথা বলছেন না। নিরব আছেন। মানবাধিকার কমিশন সংস্কার কিংবা গুম বিরোধী আইনের মতো যে অধ্যাদেশগুলো তিনি নিজে ঘটা করে জারি করেছিলেন,এখন বিএনপি সরকার সেগুলো বাতিল করার চেষ্টা আছে।
অধ্যাপক ইউনূসের নিরবতার কারণেই নাহিদ ইসলাম সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। বলছেন দূরে না থেকে জপথে আসুন, জবাব দিন। জনগণ এখন ভাবছে,এই কি সেই ড. ইউনুস যিনি বারবার বলেছিলেন,"ছাত্ররাই আমার নিয়োগকর্তা"?
নাহিদ ইসলাম বলে দিয়েছেন,ব্যাখ্যা না দিলে জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। এখন দেখার বিষয়,সাবেক প্রধান উপদেষ্টা রাজপথে নামেন কিনা
Comments