ইরানের দর-কষাকষির শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে নিখোঁজ মার্কিন ‘ক্রু’
ইরানে নিখোঁজ হওয়া এক মার্কিন ক্রু সদস্যকে উদ্ধারের জন্য যুক্তরাষ্ট্র যে অভিযান শুরু করেছে, তা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। যদিও এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য মার্কিন বাহিনী বহু বছর ধরে প্রস্তুতি নিয়ে এসেছে। তবে বিষয়টি রাজনৈতিকভাবেও জটিল।
যদি ইরান ওই সেনাকে খুঁজে পায় এবং টেলিভিশনে দেখায়, তাহলে তা তেহরানের জন্য বড় প্রচারণা সাফল্য হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি রাজনৈতিক লজ্জা ও উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি ওই মার্কিন ক্রু সদস্য ইরানের হাতে বন্দি হন, তাহলে তা তেহরানের জন্য বড় দর-কষাকষির হাতিয়ার হয়ে উঠবে। চ্যাথাম হাউসের যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর আমেরিকা বিষয়ক কর্মসূচির পরিচালক লরেল র্যাপ বলেন, ভূপাতিত হওয়া মার্কিন যুদ্ধবিমানের ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মিশন।
তিনি বলেন, যদি ইরান তাকে আটক করে, তাহলে সেটি তাদের জন্য 'বড় পুরস্কার' হবে। তাদের হাতে থাকবে 'খুবই শক্তিশালী দর-কষাকষির হাতিয়ার'। কারণ এতে তারা শক্তিশালী রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারবে। এমনকি তার ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের চোখে এই যুদ্ধ আরো অজনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে।
র্যাপের মতে, যদি ওই সেনার ছবি প্রকাশ করা হয়, তাহলে তা মার্কিন জনমতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। এতে এমন বার্তাও যেতে পারে যে কাউকে জিম্মি করলে তা কার্যকর চাপ তৈরি করতে পারে, যা সংঘাত কমানোর উদ্যোগকে আরো জটিল করে তুলবে।
এদিকে যুদ্ধ শেষ করার প্রচেষ্টা এখন প্রায় স্থবির হয়ে আছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করে আসছেন যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান 'এপিক ফিউরিকে' নতুন অর্থ দিতে পারে। তবে প্রতিশোধমূলক কোনো পদক্ষেপ নিলে তা ইরান, পুরো মধ্যপ্রাচ্য এবং আগেই অর্থনৈতিক ধাক্কায় নড়বড়ে হয়ে থাকা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য আরো ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
পাঁচ সপ্তাহের যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দাবি করছে, তারা ইরানের সামরিক সক্ষমতায় বড় ক্ষতি করেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও বারবার বলেছেন, তারা আকাশে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে। তবে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর সেই দাবির ওপর এখন প্রশ্ন উঠেছে।
ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির কর্মকর্তারা নিখোঁজ মার্কিন বিমানসেনাকে ধরতে সাহায্য করলে নাগরিকদের প্রায় ৬০ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এসব তথ্যের বাইরে এখনো অনেক কিছুই অস্পষ্ট। বর্তমানে মার্কিন বাহিনীর অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান কোন পর্যায়ে আছে, সেটি স্পষ্ট নয়। ইরানও নিখোঁজ মার্কিন সেনার কোনো আপডেট দেয়নি। নিখোঁজ ওই ক্রু সদস্য আদৌ বেঁচে আছেন কি না, তাও নিশ্চিত নয়।
Comments