দেশে জ্বালানি সংকট নেই, বিকল্প উৎস থেকে আমদানির চেষ্টা চলছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থার মধ্যেও বাংলাদেশে বর্তমানে কোনো জ্বালানি সংকট নেই বলে সংসদকে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। আজ সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রশ্নোত্তরে তিনি এ কথা বলেন।
ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাশেমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। তবে তাঁর এই বক্তব্যের পরপরই সংসদ কক্ষে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে ব্যাপক হট্টগোল ও প্রতিবাদ শুরু হয়। পরে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রস্তুতি তুলে ধরে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, "আমরা যেন কেবল একটি অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল না থেকে একাধিক উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারি, সে লক্ষ্যে কাজ করছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সাথে একাধিকবার বৈঠক করেছেন এবং বিকল্প উৎসগুলো থেকে জ্বালানি আমদানির বিষয়ে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।"
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি সংসদকে অবহিত করেন যে: ইরানের তেহরান থেকে গত কয়েক দিনে ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে চার্টার্ড বিমানে করে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। চলমান সংঘাতে এ পর্যন্ত পাঁচজন বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ করেছেন। এর মধ্যে দুইজনের মরদেহ সফলভাবে দেশে আনা সম্ভব হয়েছে। বাকিদের বিষয়েও প্রক্রিয়া চলছে। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশনগুলো প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চব্বিশ ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে বাংলাদেশের নাগরিকরা সংকটে পড়লে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই সরকারের একমাত্র লক্ষ্য। তিনি বলেন, "জ্বালানি পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং প্রবাসীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমরা কোনো আপস করব না।"
সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল থেকে আরও বাংলাদেশিকে সরিয়ে আনার প্রয়োজন হলে সরকার তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
Comments