পুরস্কারের অর্থ- কে কত পেল? বাংলাদেশের ভাগ্যে কী জুটল?
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মানে শুধু ক্রিকেটের লড়াই নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে সম্মান, গৌরব এবং বিশাল অঙ্কের অর্থ পুরস্কার। এবারের বিশ্বকাপেও ব্যতিক্রম হয়নি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি মোট প্রায় ১২০ কোটি রুপি পুরস্কার ঘোষণা করেছিল এই টুর্নামেন্টের জন্য।
বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া প্রতিটি দলই কিছু না কিছু অর্থ পেয়েছে। তবে দল যত সামনে এগিয়েছে, পুরস্কারের অঙ্ক তত বেড়েছে। আর সবশেষে সবচেয়ে বড়ো পুরস্কার গেছে চ্যাম্পিয়ান দলের ঘরে।
রোববার আহমেদাবাদের মাঠে ফাইনাল ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে ভারত হারিয়েছে নিউ নিউজিল্যান্ডকে। সেই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপের ট্রফি যেমন জিতেছে ভারত, তেমনি পুরস্কারের অর্থের দিক থেকেও তারা রয়েছে সবার শীর্ষে। ভারত পেয়েছে প্রায় ২৭ কোটি ৪৮ লক্ষ রুপি। এই বড় অঙ্কের অর্থ গেছে ভারতীয় দলের ক্রিকেটারদের কাছে, যেখানে দলে ছিলেন তারকা ব্যাটার সূর্যকুমার যাদবসহ অন্যান্য খেলোয়াড়রা।
অন্যদিকে ফাইনালে হেরে রানার্সআপ হয়েছে নিউজিল্যান্ড। যদিও তারা শিরোপা জিততে পারেনি, তবুও পুরস্কার হিসেবে পেয়েছে প্রায় ১৪ কোটি ৬৫ লক্ষ রুপি।
সেমিফাইনাল পর্যন্ত উঠে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ফাইনালে জায়গা করতে পারেনি দুই শক্তিশালী দল দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ড। সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া এই দুই দল প্রত্যেকেই পেয়েছে প্রায় ৭ কোটি ২৪ লক্ষ রুপি করে।
এবার আসা যাক টুর্নামেন্টের মাঝামাঝি পর্যায়ের দলগুলোর কথায়। যে-সব দল সুপার এইট পর্বে পৌঁছেছিল, কিন্তু সেখান থেকেই বিদায় নিয়েছে, তারা পেয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি রুপি। এই তালিকায় রয়েছে পাকিস্তানও। অর্থাৎ, তারা বিশ্বকাপের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত যেতে না পারলেও খালি হাতে ফেরেনি।
আর যারা গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি, তাদের জন্যও ছিল নির্দিষ্ট অর্থ পুরস্কার। গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়া দলগুলো প্রত্যেকে পেয়েছে প্রায় ২ কোটি ৩০ লক্ষ রুপি করে।
তবে এই তালিকার বাইরে থেকেছে একটি দল— বাংলাদেশ। কারণ এই টুর্নামেন্টে তারা অংশ নেয়নি। ফলে অন্য সব দেশের মতো কোনো পুরস্কারের অর্থ বাংলাদেশের ভাগ্যে জোটেনি। ক্রিকেটপ্রেমী বাংলাদেশের সমর্থকদের জন্য এটি অবশ্যই কিছুটা হতাশার খবর।
বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে শুধু ট্রফি নয়, অর্থ পুরস্কারও দলগুলোর জন্য বড় প্রেরণা হয়ে কাজ করে। কারণ এই অর্থ দলগুলোর ক্রিকেট উন্নয়ন, খেলোয়াড়দের সুযোগ-সুবিধা এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুধু মাঠের লড়াই নয়, পুরস্কারের অঙ্কের দিক থেকেও ছিল বেশ চমকপ্রদ। আর সেই লড়াইয়ের শেষে সবচেয়ে বড় হাসিটা হেসেছে ভারতই।
শেষ কথা : আগামী বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অংশ নিয়ে এমন পুরস্কারের তালিকায় জায়গা করে নিতে পারবে কি? সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।
Comments