১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। মঙ্গলবার দুপুরে নারী ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা পাবেন ফ্যামিলি কার্ডধারীরা।
তিনি জানান, কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হবে। ১৩টি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু হবে। এর ৪ মাস পর পর্যায়ক্রমে সারাদেশে তিন শ্রেণির হতদরিদ্ররা ফ্যামিলি কার্ড পাবেন।
প্রসঙ্গত, আসন্ন ঈদের আগেই সারাদেশে প্রায় ১০ হাজার প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে 'ফ্যামিলি কার্ড' দেওয়ার মাধ্যমে কর্মসূচীর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ চার মাসে (মার্চ-জুন) এই কর্মসূচি পরিচালনায় সরকারের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে আট থেকে ১০ কোটি টাকা। দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। রোববার অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি কার্ড প্রদান-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির প্রথম বৈঠকে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।
বৈঠক সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে আট বিভাগের আটটি উপজেলায় পাইলট কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা থাকলেও আরও দুটি উপজেলা যুক্ত করার প্রস্তাব এসেছে। সম্ভাব্য উপজেলাগুলোর মধ্যে বগুড়ার গাবতলী ও দিনাজপুরের নবাবগঞ্জের নাম আলোচনায় রয়েছে। প্রতি উপজেলায় এক হাজার করে প্রায় ১০ হাজার উপকারভোগী পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করে কর্মসূচি শুরু করার প্রস্তাব করা হয়েছে। উপকারভোগী পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে নগদ দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
অর্থ বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে, চার মাসের জন্য কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রতি মাসে দুই হাজার টাকা করে দেওয়া হলে আট কোটি টাকা এবং আড়াই হাজার টাকা করে দেওয়া হলে ১০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। বৈঠকে উপকারভোগীর সংখ্যা, নির্বাচনের মানদণ্ড এবং বাস্তবায়ন নীতিমালা চূড়ান্ত করে একটি সুস্পষ্ট প্রস্তাবনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন কমিটির কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কমিটি প্রতিবেদনটি অনুমোদন করলে তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। উপকারভোগীর চূড়ান্ত সংখ্যা ও ভাতার পরিমাণ প্রধানমন্ত্রী নির্ধারণ করবেন।
Comments