অপ্রতিম হত্যার বিচার দাবিতে মুশফিক-রুবেলদের বার্তা
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের অকালমৃত্যু নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুশফিকুর রহিম, সাবেক পেসার রুবেল হোসেনসহ ক্রীড়াঙ্গনের আরও অনেকেই।
মুশফিকুর রহিম তার নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে এক আবেগঘণ বার্তায় বলেন, 'অপ্রতিমের অকালমৃত্যুর খবর সত্যিই হৃদয়বিদারক ও মেনে নেওয়ার মতো নয়। যে বয়সে তার হাসি, খেলাধুলা আর স্বপ্নে বেড়ে ওঠার কথা ছিল, সেই বয়সেই তাকে এভাবে চলে যেতে হলো। তার পরিবার, বিশেষ করে তার মায়ের জন্য এই শোক কতটা গভীর তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।'
বিচারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, 'আমরা আশা করি, এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হবে এবং প্রকৃত সত্য সবার সামনে আসবে। যারা দায়ী, তাদের যথাযথভাবে আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক। একই সময় কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানি বা অন্যায়ের শিকার না হন, সেদিকেও নজর রাখা জরুরি।'
এদিকে শিশুদের নিরাপত্তায় রাজনৈতিক অঙ্গনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে জাতীয় দলের সাবেক পেসার রুবেল লিখেছেন, 'তেল-গ্যাস সংকট সময়ের সঙ্গে সমাধান হতে পারে। কিন্তু একটি শিশুর নিখোঁজ হওয়া কিংবা লাশ হয়ে ঘরে ফেরা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।'
সরকারের কাছে বিচারের দাবি জানিয়ে তিনি লেখেন, 'অপরাধী যে-ই হোক, যে দলেরই হোক, কোনো পরিচয় বা প্রভাব তাকে রক্ষা করতে পারবে না। তার পরিচয় একটাই, সে একজন অপরাধী। দয়া করে দেশের আইন-শৃঙ্খলা ও আইনি ব্যবস্থাকে আরো কঠোর ও কার্যকর করুন।'
সম্প্রতি শিশুদের সাথে ঘটে যাওয়া সহিংসতা নিয়ে তিনি আরও লিখেছেন, 'শিশুদের নিরাপত্তায় শূন্য ছাড় চাই। আর কোনো বাবা-মায়ের বুক খালি হতে দেখতে চাই না। জনগণ আর আশ্বাস নয়, নিরাপদ বাংলাদেশ ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ চায়।'
এর আগে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম নিখোঁজ হয়। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান। অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে উদ্ধারে বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালানো হয়। পরে তার মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি তদন্তে নামে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী।
Comments