চউকের অভিযানে কল্পলোকে ৭ ভবন সিলগালা
অবৈধ ও নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি নিয়ে মাঠে নেমেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)। নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনের কঠোর হুঁশিয়ারির পর নগরীর বাকলিয়া থানাধীন কল্পলোক আবাসিক এলাকায় এক সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে সংস্থাটি। অভিযানে নকশা বহির্ভূতভাবে নির্মিত ৭টি বহুতল ভবন ও একটি অনুমোদনহীন গুদাম সিলগালা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আইন অমান্য করায় তিন ভবন মালিককে মোট ১৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
মঙ্গলবার কল্পলোক আবাসিক এলাকায় চউকের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হামীমুন তানজীনের নেতৃত্বে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। সিএমপির পুলিশ সদস্যরা অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন।
চউক সূত্র জানায়, কল্পলোক আবাসিক এলাকার নির্মাণাধীন ভবনগুলো পরিদর্শনের সময় ব্যাপক অনিয়ম চোখে পড়ে। বিশেষ করে ভবন নির্মাণে বাধ্যতামূলক সেটব্যাক (প্লটের সীমানা থেকে নির্ধারিত খালি স্থান) সংরক্ষণ না করা এবং অনুমোদিত নকশা থেকে বিচ্যুতি বা ডেভিয়েশনের অকাট্য প্রমাণ মেলে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২-এর ১২(১) ধারা অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে ১১টি স্থাপনার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর মধ্যে নকশাবহির্ভূত ৭টি বহুতল ভবন ও ১টি অবৈধ গুদাম সিলগালা করে সেগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এছাড়া ৩ জন ভবন মালিককে ১৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
চউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, 'কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করে নিয়ম বহির্ভূতভাবে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করবেন না। অন্যথায় সেই স্থাপনা ভেঙে ফেলতে চউক বাধ্য হবে। পরিকল্পিত ও নিরাপদ নগর গড়তে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না'।
চউক চেয়ারম্যান আরও জানান, নকশাবহির্ভূত ভবনের বিরুদ্ধে চউকের এই অবস্থান একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং আগামীতে এই অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
অভিযানকালে চউকের অথরাইজড অফিসার-২ কাজী কাদের নেওয়াজ, সহকারী অথরাইজড অফিসার আসাদ বিন আনোয়ার, সহকারী অথরাইজড অফিসার ফারুক আহাম্মদসহ সংশ্লিষ্ট ইমারত পরিদর্শকরা উপস্থিত ছিলেন।
Comments