বিষণ্ণতা জয় করে বিশ্বমঞ্চে আরমান আলী: এক অনন্য বিশ্বরেকর্ড
ব্যর্থতার ছাই থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জেগে ওঠার এক অবিস্মরণীয় উপাখ্যান লিখলেন তরুণ নির্মাতা মো. আরমান আলী। গত বছরের চরম হতাশা আর না-পাওয়ার বেদনাকে সৃজনশীল শক্তিতে রূপান্তর করে তিনি ঘটিয়েছেন এক অবিশ্বাস্য ম্যাজিক। তার নির্মিত পূর্ণদৈর্ঘ্য স্বতন্ত্র প্রামাণ্যচিত্র 'শেডস অফ স্যাডনেস' এখন বিশ্বমঞ্চে সাফল্যের জয়গান গাইছে।
একটি বা দুটি নয়, আরমান আলীর এই চলচ্চিত্রটি বিশ্বের ৮টি মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবে স্থান করে নিয়ে ইতিহাস গড়েছে। উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলো হলো: স্টকহোম সিটি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল: অনারেবল মেনশন। সুইডেন ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস: সেমি-ফাইনালিস্ট। অন্যান্য মনোনয়ন: বার্লিন ইন্ডি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, রোম প্রিজমা ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস, ফোকস্টোন, পেশোয়ার এবং সুইডিশ ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালসহ মোট ৮টি উৎসব।
চলচ্চিত্রটি নির্মাণের প্রেক্ষাপট কোনো সিনেমার গল্পের চেয়ে কম রোমাঞ্চকর নয়। গত বছর একটি ফিকশন ফিল্ম নির্মাণে ব্যর্থ হয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন আরমান। সেই বিষণ্ণতা থেকেই তার মাথায় আসে এক অভিনব ভাবনা—পৃথিবীর নানা প্রান্তের মানুষের দুঃখের গল্পগুলোকে এক সুতোয় গাঁথলে কেমন হয়?
ব্যক্তিগত দুঃখের কথা মানুষ সহজে বলতে চায় না, তবুও অক্লান্ত পরিশ্রমে বিভিন্ন দেশ ও বয়সের মানুষের বিচিত্র সব আবেগ একত্রিত করে তিনি তৈরি করেন এক অনন্য 'ভিডিও ডায়েরি'। যা শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় পূর্ণাঙ্গ প্রামাণ্যচিত্রে।
আরমান আলী বলেন-"আমি দেখতে চেয়েছি বর্তমান সময়ের মানুষের দুঃখের অনুভূতিগুলো ভবিষ্যতে একই রকম থাকবে কি না। এটি কেবল একটি সিনেমা নয়, এটি আমাদের সময়ের এক আবেগীয় দলিল।"
আরমানের নিজস্ব প্রোডাকশন হাউস 'ফিল্ম স্যুটকেস'-এর ব্যানারে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে একটি শক্তিশালী দল কাজ করেছে। এই সাফল্যের নেপথ্যে আরও ছিলেন, সহকারী পরিচালক মাসরুর আদ্দিন, আবহ সংগীত শাহাদাত হোসেন নাদিম। সাবটাইটেল ও পোস্টার সুমিত আহসান। সাক্ষাৎকার সংগ্রহ মাকসুরা আক্তার ও মোসা আল শরীফ।
বর্তমানে 'শেডস অফ স্যাডনেস' আরও বেশ কিছু আন্তর্জাতিক উৎসবের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে। ব্যর্থতাকে সাফল্যের সিঁড়িতে রূপান্তর করার এই উদাহরণ এখন তরুণ নির্মাতাদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা।
Comments