রাষ্ট্রপ্রতি নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ ও জনগণের মতামতের দিক থেকে প্রস্তাবনা
রাষ্ট্রপ্রতি নির্বাচন, সাংবিধানিক বাস্তববতা ও রাজনৈতিক সমীকরণের আলোকে ওঠে এসেছে ২৩তম রাষ্ট্রপ্রতি নিয়োগের বিষয়টি। বাংলাদেশের রাজনীতি আবারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছি - দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপ্রতি কে হবেন। রাজনৈতিক অঙ্গন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং জেলা উপজেলা গ্রাম পাড়া-মহল্লায় থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহলে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। নতুন রাষ্ট্রপ্রতি নিয়ে নানা বিশ্লেষণ সামনে দিকে বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে। রাষ্ট্রপ্রতি পদটি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ এটি। সংবিধান অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রের প্রধান এবং সংবিধানের রক্ষক । যদিও নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীসভার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তবুও রাষ্ট্রপ্রতির সাংবিধানিক ভূমিকা বিশেষ করে রাজনৈতিক সংকট, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা এবং রাষ্ট্রের মর্যাদা রক্ষার ক্ষেত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই হিসেবে উপরোক্ত আলোচনা - পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের নাগরিকদের মতামতের বিষয়টি পর্যালোচনার মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আমার লেখাটির মাধ্যমে রাষ্ট্রপ্রতি নিয়োগের ক্ষেত্রে যে প্রস্তাবনা বিষয়গুলোর উপর জরীপ করে - যাদের নামগুলো তুলে ধরা হয়েছে উক্ত লেখাটির মাধ্যমে। এতে সরকারের নিকট দৃষ্টি আকর্ষণ করে সাধারণত মানুষ ও জনগণের মতামতের দিকগুলো থেকে উপরোক্ত প্রস্তাবনার নামগুলো তুলে ধরলাম।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অধ্যায়ের অবশেষে সমাপ্তি ঘটেছে।
জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামী, জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সংগঠন জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল দীর্ঘদিন ধরেই রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিনের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে আসছিলো। পাঁচ আগস্টের মধ্যে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ না করলে, জামায়াত বা সমমনা দলগুলো ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে পারে, সরকারের কাছে এরকম গোয়েন্দা তথ্য ছিল। মূলত এ কারণেই বর্তমান সরকার রাষ্ট্রপতির ব্যাপারে আর ঝুঁকি নেয়নি।
নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির সিনিয়র কয়েক নেতা আলোচনায় রয়েছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের বিষয়টি ও ভিতর গতভাবে আলোচনায় ওঠেছে । বিভিন্ন তথ্যের মাধ্যমে মুহাম্মদ ইউনুসের বিষয়টি বহিবিশ্ব থেকে ও নানানভাবে আলোচনা ও প্রস্তাবনা প্রেরণ করা হচ্ছে সরকারের নিকট। সবকিছু মিলিয়ে আমাদের দেশের আপামর সাধারণ মানুষের মতামত হচ্ছে - বিগত ১/১১ এর বিষয়টি মাথায় রেখে চিন্তা ভাবনা যেন করা হয়। সেই সাথে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও আগামীর নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে মিশন প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমানের - ঘোষিত সবার আগে বাংলাদেশ " সেই শ্লোগানকে ধারণ করে আগাতে হবে এমনটাই দাবি দেশের আপামর সর্বস্তরের মানুষের।
এরমধ্যে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও আরেক সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। তাছাড়া যদি দল বিএনপি মূল শীর্ষ পর্যায়ে নেতৃত্বের বাইরে থেকে করতেই হয় তাহলে ১/১১ এর সময়কাল বিরাজমান বিষয়টি মাথায় রেখে - সীদ্ধান্তে যাওয়া দরকার। সেই হিসেবে দেশের প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক, সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতায় সুপরিচিত - শুধু বাংলাদেশ নয় বহিবিশ্বে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও যাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে তিনি হলেন ড. মাহবুব উল্লাহকে নির্বাচিত করা যেতে পারে এমনটা ও দেশের আপামর সাধারণ মানুষের মতামতের দিকে ওঠে এসেছে।
রাষ্ট্রের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ এমন একটি পদটিতে অবশ্যই সে-ধরনের মেরুদণ্ড ওয়ালা ও দেশে বিদেশে বহিবিশ্বে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে এমন কাউকে রাষ্ট্রপ্রতির পদে নিয়োগ করতে হবে। বিগত বিএনপি ও জামায়াত চারদলীয়জোট সরকারের আমলে বি চৌধুরী ও ইয়াজ উদ্দীন লেভেলের মার্কা এমন কাউকে যেনো করা না হয় সেই বিষয়টি আমরা বিশেষকরে বর্তমান বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের তরুণদের মধ্য থেকে এমনটাই সামাজিক যোগাযোগ থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন আলোচনাই ঘুরপাক করছে।
কিন্তু একজন নিরেট ভদ্রলোক শিক্ষক হিসেবে পরিচিত প্রফেসর ইয়াজউদ্দিন রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগের পর বিএনপিকে তার প্রতিষ্ঠালগ্নের পর সবচেয়ে কঠিন, ভয়াবহ ক্রান্তিলগ্ন পাড় হতে হয়। খালেদা জিয়ার সরকারের মেয়াদ শেষে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রশ্নে তৎকালীন বিরোধীদল আওয়ামী লীগ, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আন্দোলন ও বিরোধিতা শুরু করে।
রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ হওয়ায় প্রফেসর ইয়াজউদ্দিন সেই বিরোধিতাকে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দিয়ে মোকাবিলা করতে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দেন। ফলে সেই সময় বিভিন্ন অপরাজনীতি মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। আর সেই সুযোগে তৎকালীন সেনাপ্রধান মইনুদ্দিন আহমেদ বন্দুকের নলের মুখে ইয়াজউদ্দিনকে দিয়ে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করাতে সক্ষম হন।
বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানের নিকট দেশের আপামর সর্বস্তরের মানুষ ও জনগণের দাবি ও মতামত প্রত্যাশা করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিনি যেনো সবকিছু বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিগত সময়ের ভুল পথের চিত্রগুলোকে সামনে রেখে সঠিক সীদ্ধান্তে উপনীত হন সেই প্রত্যাশা ও দোয়া করছেন দেশের জনগণ।
এতে আগামী রাষ্ট্রপ্রতি নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর চুড়ান্ত মনোনয়ন প্রদানের সীদ্ধান্তকে সুস্বাগত জানাচ্ছেন জনগন। সেই প্রত্যাশা বাংলাদেশের মানুষের এমন চাওয়া পাওয়া ও প্রত্যাশার মাধ্যমে এমন একজন রাষ্ট্রপ্রতিকে নিয়োগের ক্ষেত্রে সফলতা কামনা করছেন দেশের আপামর সাধারণ মানুষ।
যিনি সংবিধানের প্রতি অবিচল থাকবেন, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ থাকবেন তিনিই হবেন রাষ্ট্রপ্রতি। তাছাড়া দেশের রাজনৈতিক সংকট নিরপেক্ষ ও বিচক্ষণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবেন যিনি তিনিই হবেন রাষ্ট্রপ্রতি। দলীয় স্বার্থে উর্ধ্বে উঠে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হবেন রাষ্ট্রপ্রতি।
বিশেষকরে ২৪ শে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী বর্তমান বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শক্তিশালী সাংবিধানিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন। একটি বিষয় স্পষ্ট - বাংলাদেশ এমন একজন রাষ্ট্র প্রতি চায় - যিনি দল - মতের উর্ধ্বে উঠে সংবিধানের মর্যাদা রক্ষা করবেন - গণতন্ত্রকে সুসংহত করবেন এবং জনগণের আস্থা অর্জন করবেন তিনিই হবেন রাষ্ট্র প্রতি । রাষ্ট্রপ্রতি কেবল একটি পদ নয় - এটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও ঐক্য, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা এবং জাতীয় মর্যাদার প্রতীক হিসেবে মর্যাদার আসনে উপনীত হবে।
মোহাম্মদ অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার: ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক বাংলাপোষ্ট ও সভাপতি ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলন
Comments