প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে মালয়েশিয়া পাড়ি; ঘর-বাড়ি গুড়িয়ে দিল ২য় স্ত্রীর লোকজন
স্ত্রীকে রেখে দীর্ঘদিন মালয়েশিয়া প্রবাসী রফিউদ্দিন। এরই মধ্যে স্ত্রী পরকীয়ায় মজে এক ইতালি প্রবাসীর সাথে। খবর পেয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন তিনি। বছরখানেক ঘর-সংসার করে আবার প্রথম স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক করে তাকে নিয়ে গেছেন মালয়েশিয়া। এরপর ক্ষুব্ধ হয়ে মাটিকাটা স্কেভেটর দিয়ে রফিউদ্দিনের ঘর-বাড়ি গুড়িয়ে দিয়েছে ২য় স্ত্রীর লোকজন।
ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার (৩ আগষ্ট) চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার খেজুরতলা গ্রামে।
আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ জানায়, উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের খেজুরতলা গ্রামের মৃত রোমজান আলির ছেলে রফিউদ্দিন বিয়ে করেন একই গ্রামের সহিদুল ইসলামের মেয়ে ছনিয়া খাতুনকে। দীর্ঘদিন বিদেশে (মালয়েশিয়া) থাকার কারণে ছনিয়া খাতুন এক ইতালি প্রবাসীর সঙ্গে অজানার উদ্দেশ্য পাড়ি জমিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত থানায় বিচার শালিশের মাধ্যমে নিস্পত্তি হয় এবং ছনিয়া খাতুন ইতালি প্রবাসীর কাছে থেকে যায়। মালোয়েশিয়া প্রবাসী রফিউদ্দিন বাড়ি এসে একই গ্রামের মুকুল হোসেনের মেয়ে রিমা খাতুনকে বিয়ে করেন।
বিয়ের একবছরে মাথায় রফিউদ্দিন আবার প্রথমা স্ত্রী ছনিয়া খাতুন কে পুনরায় বিয়ে করে ঘরে তোলেন এবং তাকে নিয়ে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান।
এই ঘটনায় গ্রামবাসী থেকে শুরু করে দ্বিতীয় স্ত্রী রিমার খাতুনের পরিবার ও আত্মীয় স্বজনরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
রবিবার সকাল ১০ টার সময় মাটিকাটা স্কেভেটর দিয়ে রফিউদ্দিনের বাড়িঘর ভেঙে গুড়িয়ে দেয়। এ সময় ঘরবাড়ি ভাঙার দৃশ্য গ্রামবাসীরা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখতে থাকেন।
এ বিষয়ে গ্রামের মানুষ রফিউদ্দিনের কার্যকলাপের প্রতি ঘৃণা পোষণ করেন। তারা বলেন, মুকুলের মেয়ে অতিভদ্র, নম্র প্রকৃতির মেয়ে। তার জীবনটা এভাবে রফিউদ্দিন শেষ করে দিয়েছে। তার যথাযথ শাস্তি হওয়া উচিত।
নাগদাহ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বোরহান উদ্দিন মেম্বার বলেন, মুকুল হোসেনের মেয়ে অতিভদ্র ও অমায়িক একটা সভ্য মেয়ে। তার জীবন নিয়ে এভাবে ছিনিমিনি খেলা উচিত হয়নি। ক্ষোভের কারণে এইভাবে ঘরবাড়ি না ভেঙে আইনি পদক্ষেপ নিলে ভালো হতো।
এ ব্যাপারে আলমডাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ বানী ইসরায়েল বলেন, ঘটনা সম্পর্কে অবগত আছি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা করা হবে।
Comments