সুপার এল নিনোর প্রভাবে আগামী ৬ মাসে সাড়ে ৪ লাখ মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা
সুপার এল নিনোর কারণে সৃষ্ট তীব্র দাবদাহ আগামী ৬ মাসে বিশ্বজুড়ে ৪ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে—এমনই এক শিউরে ওঠার মতো পূর্বাভাস দিয়েছেন জলবায়ু বিজ্ঞানীরা।
মানুষের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে কাজ করা গবেষণা সংস্থা 'ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব' সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, ইন্দোনেশিয়া থেকে ভারত, নাইজেরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্র—বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এই অতিরিক্ত তাপমাত্রার মারাত্মক প্রভাব পড়বে।
পিয়ার-রিভিউড পদ্ধতি ব্যবহার করে তৈরি এই পূর্বাভাসে বিশ্বের ২৪ হাজার ৩৭৮টি অঞ্চলের মাসভিত্তিক তাপমাত্রা এবং অতিরিক্ত তাপজনিত মৃত্যুর সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর সঙ্গে আগামী মাসগুলোতে এল নিনোর কারণে তাপমাত্রা বাড়ার পূর্বাভাস যুক্ত করা হয়েছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, এল নিনোর ফলে সৃষ্ট খরা, দাবানল ও বন্যার কারণে এই মৃত্যুর বাইরেও আরও বহু মানুষের জীবন বিপন্ন হতে পারে।
এবারের এল নিনো আগামী কয়েক মাসের মধ্যে তার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তবে এর আগেই গত সোমবার এল নিনোর ইতিহাসে রেকর্ডকৃত তাপমাত্রা সর্বোচ্চ সীমা ছাড়িয়ে গেছে। পূর্বের যেকোনো ঘটনার তুলনায় এবার তাপমাত্রা এতটাই বেশি যে, বিজ্ঞানীরা একে অবিশ্বাস্য এবং 'গডজিলা লেভেল' বলে অভিহিত করেছেন।
ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাইকেল গ্রিনস্টোন বলেন, "৪ লাখ ৫১ হাজার মৃত্যুর এই পরিসংখ্যানের পেছনে রয়েছে অসংখ্য মানুষের প্রাণ, যাদের মধ্যে কারও বাবা-মা, সন্তান কিংবা স্বজন রয়েছে।" চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ের পূর্বাভাস ধরে এই হিসাব করা হয়েছে। তবে তাপজনিত মৃত্যুর উচ্চ হার আগামী বছরের জুন
আগামী ছয় মাসে ক্রান্তীয় বা গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলের দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে, নাইজেরিয়া,ইন্দোনেশিয়া, সুদান, ভারত, ব্রাজিল।
এছাড়াও সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ২০টি দেশের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রও রয়েছে, যেখানে অতিরিক্ত ৩ হাজার ৫০০ জনের তাপজনিত মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে আফ্রিকার সাহেল অঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আগাম সতর্কতা ও জীবন রক্ষাকারী পদক্ষেপ গ্রহণের সুবিধার জন্য গবেষকরা অঞ্চলভিত্তিক তাপজনিত মৃত্যুর পূর্বাভাস দিয়েছেন। জরুরি পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে:
-
উন্নত তাপপূর্বাভাস ব্যবস্থা চালু করা
-
শীতলীকরণ কেন্দ্র (কুলিং সেন্টার) স্থাপন করা
-
উষ্ণতম সময়ে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে জনবল বাড়ানো
-
বাইরে কাজ করা শ্রমিকদের জন্য বিশেষ সুরক্ষার ব্যবস্থা করা
গবেষণা প্রতিবেদনটির সহ-লেখক ও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বার্কলে) সহযোগী অধ্যাপক তাম্মা কার্লটন বলেন, জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। সঠিক জায়গায় প্রচেষ্টা কেন্দ্রীভূত করলে এ বছর বহু মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব। বর্তমানের এই চরম তাপমাত্রা হয়তো আগামী ২০ বছর পর 'নিউ নরমাল' বা স্বাভাবিক অবস্থায় পরিণত হবে, তাই এখনই জীবন রক্ষামূলক স্থায়ী প্রস্তুতি নেওয়ার সময় এসেছে বলে সতর্ক করেন তিনি।
Comments