সরকারি কর্মকর্তার নামে চালের ডিলারশিপ ও নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ
ঢাকার কেরানীগঞ্জে সরকারি চাকরিতে কর্মরত এক কর্মকর্তার নামে চালের ডিলারশিপ পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন মেহেদী হাসান আবির। তিনি মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক হিসেবে কর্মরত। প্রতিষ্ঠানটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন।
অভিযোগ অনুযায়ী, কেরানীগঞ্জ উপজেলার শুভাঢ্যা ইউনিয়নের ইকুরিয়া হাউজিং বাজারে 'আবির গ্রোসারি শপ' নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চালের ডিলারশিপ পরিচালনা করা হচ্ছে। সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত একজন কর্মকর্তা কীভাবে এ ধরনের ডিলারশিপের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
খাদ্য অধিদপ্তরের ২০২৪ সালের ৯ নভেম্বর প্রকাশিত ওএমএস ডিলার নিয়োগ নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের লাভজনক পদে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ডিলার হতে পারবেন না। ফলে মেহেদী হাসান আবিরের নামে ডিলারশিপ পরিচালনার অভিযোগ নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তোলা ছবি প্রদর্শন করে তিনি স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করতেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হলেও তিনি বিষয়টি নিজেই সামলে নেবেন বলে আশ্বস্ত করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মিজানুর রহমান বলেন, 'আমি এ বিষয়ে জানি না। তবে সরকারি কর্মচারীরা চালের ডিলারশিপ পেতে বা পরিচালনা করতে পারবেন না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।'
কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ওমর ফারুক বলেন, 'আমরা বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।'
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মেহেদী হাসান আবিরের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বিষয়টি জানানো মাত্রই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি চাকরিতে যোগদানের পরও কীভাবে একজন কর্মকর্তা নিজের নামে চালের ডিলারশিপ পরিচালনা করছেন? ডিলারশিপের লাইসেন্স, সরকারি বরাদ্দ গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত পরিচালনাকারী কে—এসব বিষয়ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামে ডিলারশিপ বরাদ্দের বৈধতা, সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর ব্যবসা পরিচালনার বিষয়টি এবং নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।
Comments