ছয় দফা নিয়ে রাজপথে ১১ দল, কুমিল্লায় জামায়াত আমিরের কড়া বার্তা
সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে এবং প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর তা বাস্তবায়ন করছে না বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা ও দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা নগরীর পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে এ দেশের অনেক মানুষ রাজপথে রক্ত দিয়েছেন। তাদের যে প্রত্যাশা ছিল, তা এখনো পূরণ হয়নি। সেই দাবিগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই তারা আবার রাজপথে নেমেছেন। দাবি আদায় করেই আন্দোলনকারীরা ঘরে ফিরবেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় কার্যকর করা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের দাবিতে এই আন্দোলন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের ঘরে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও আলো নিশ্চিত করার লক্ষ্যেও তারা কর্মসূচি পালন করছেন।
পথসভায় বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। তিনি লংমার্চের ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের পাশাপাশি গণভোটের রায় কার্যকর করার আহ্বান জানান।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, জনগণের জন্য তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। এসব মৌলিক দাবি পূরণ করা না হলে সরকারের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নিয়েও প্রশ্ন উঠবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানান।
লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। জনগণের সেই রায় কার্যকর না হলে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও জোরালো করার আহ্বান জানান তিনি।
খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন এবং বাংলাদেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে সামনে আরও কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তার মতে, এই লংমার্চের মধ্য দিয়ে চলমান আন্দোলনের দ্বিতীয় ধাপ শুরু হলো।
১১ দলীয় ঐক্যজোটের ছয় দফা দাবিকে সামনে রেখে শনিবার সকালে রাজধানী থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ শুরু হয়। পথে নারায়ণগঞ্জের শিমরাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে লংমার্চ কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে পৌঁছালে সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পথসভা শেষে চট্টগ্রামের দিকে যাত্রা করে লংমার্চ।
কুমিল্লার পথসভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও কুমিল্লা মহানগরী আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি মো. মাহবুবর রহমান।
পথসভায় ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীসহ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
Comments