পাওনা টাকা চাওয়ায় চাঁদাবাজির মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে পাওনা টাকা চাওয়ায় চাঁদাবাজি মামলা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের সারপলশিয়া ফুড অফিসার্স যমুনা জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (জুটমিল) কারখানায় এ ঘটে।
মামলায় অভিযুক্ত স্থানীয়রা হলেন- উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের পাথাইলকান্দি আসলাম তালুকদারের ছেলে ওয়ারেস (২৫), সারপলশিয়া বাছেদের ছেলে মো. শামীম (২৭), আব্দুল হাই তালুকদারের ছেলে লিখন তালুকদার (২৯)।
গত ২৬ আগস্ট ফুড অফিসার্স যমুনা জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (জুটমিল) কারখানার আক্তার হোসেনকে মামলার বাদী করে জুটমিলের অংশীদার আব্দুর রহমান ওরফে স্বপন এই অভিযুক্তদের নামে মামলা করায়। এই মামলার বাদী জুটমিলের সাবেক নিরাপত্তাকর্মী বলে জানায় এলাকাবাসী। তিনি প্রায় ২ বছর আগে চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন।
জানা যায়, জুটমিলের একজন অংশীদার মেসার্স প্রিয়ন্তী এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধীকারী আব্দুল হাই সরকারের কাছে লিখন তালুকদার ৫০ লাখ টাকা পান বলে দাবি তার। সেই পাওনা টাকাগুলো ফেরত দেওয়ার জন্য একাধিবার সময় নেন হাই সরকার। ইতোমধ্যে ৫ লাখ টাকা পরিশোধও করেছেন হাই সরকার। এরই সূত্রে ধরে গত ২২ আগস্ট বন্ধুদের নিয়ে জুটমিলে পাওনা টাকা চাইতে যান লিখন। একপর্যায়ে জুটমিলের ম্যানেজার সাজিদুর রহমান ওরফে শাহজাহানের সাথে অসৎ আচরণ করে লিখনসহ তার বন্ধুরা।
এরপর ২৪ আগস্ট জুটমিল কর্তৃপক্ষ থেকে পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে লিখনদের অফিসে ডেকে নেন। পরে সন্ধ্যায় পাওনা টাকা ফেরত না পেয়ে সেখানে গিয়ে ম্যানেজার শাহজাহানকে খুঁজতে থাকেন তারা। সে সেসময় ম্যানেজার শাহজাহান জুটমিলের মিলের ভিতরে পরিদর্শন করছিলেন এবং মিলের ভেতরে প্রচণ্ড গরমে তিনি হঠাৎ স্ট্রোক করলে মাটিতে পড়ে গিয়ে যায়। পরে মিলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতাল ও পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর খাঁজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এনিয়ে চালঞ্চ্য সৃষ্ট হয়।
এ ঘটনায় তাদের হুমকি-দামকিতে ভয় পেয়ে জুটমিলের ম্যানেজার সাজিদুর রহমান শাজাহান স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করছে এমন অভিয়োগ এনে ভূঞাপুর থানায় লিখিত মামলা করেন জুটমিলের সাবেক সিকিউরিটি গার্ড আক্তার হোসেন।
এ প্রসঙ্গে মামলার বাদী আক্তার হোসেন বলেন, তারা চাঁদার জন্য আসছিল কি-না সে জানেন না এবং মামলায় অভিযুক্তদের চেনেন না। তাকে দিয়ে এই চাঁদা দাবির অভিযোগ করানো হয়েছে।
মামলার অভিযুক্ত আসামিদের মধ্যে একজন লিখন তালুকদার বলেন, পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে তাকে জুটমিলে ডেকে নেয়া হয়। তারা কোনো চাঁদাবাজি করেননি। তবে, তর্কাতর্কি করেছেন রাস্তা ব্যবহার ও পাওনা টাকা নিয়ে। এছাড়া কিছু না। তাদের ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি তার।
স্থানীয়রা বলেন, পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে জুটমিল কর্তৃপক্ষ লিখনকে অফিসে ডাকেন। পরে লিখন তার কয়েকজন বন্ধু নিয়ে অফিসে যান। পরে বালুঘাটের রাস্তা ব্যবহার নিয়ে তাদের কথাবার্তা হয় এবং পাওনা ফেরত চান। একপর্যায়ে টাকা ফেরত না দেওয়ায় উভয়দের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। অফিসে ডেকে তারা নাটক সাজিয়েছেন জুটমিল কর্তৃপক্ষ। থানায় যে মামলা হয়েছে তা মিথ্যা, বানোয়াট ও সুপরিকল্পিত।
জুটমিলের অংশীদার মেসার্স প্রিয়ন্তী এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধীকারী আব্দুল হাই সরকার বলেন, তারা ওইদিন টাকার জন্য গেছে এমন না, কোনো কিছুই না। একটা নাটক সাজানো হয়েছে। এখানে অন্যকিছু ঘটছে। লিখন ও তার বন্ধুদের পরিবারের সাথে তার কথাবার্তা হচ্ছে। তিনি ঢাকা ফিরে তাদের সাথে বসবেন।
এ ব্যাপারে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম রেজাউল করিম জানান, মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আইনগত বিষয় প্রক্রিয়াধীন।
Comments