তনু হত্যা মামলা: দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি
কুমিল্লার আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার দুই অভিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য—মো. জাহিদুজ্জামান ও মো. শাহীন আলমের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল এই দুই পলাতক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে এই রেড নোটিশ জারি করে।
তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলমকে মামলার গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঘটনার সময় মো. জাহিদুজ্জামান কুমিল্লা সেনানিবাসে সার্জেন্ট এবং শাহীন আলম সৈনিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তাঁদের অবস্থান অজ্ঞাত ও তাঁরা পলাতক রয়েছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম জানান, গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা কারাগারে আটক আছেন। হত্যাকাণ্ডের সময় তিনিও কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন।
পলাতক দুই অভিযুক্তকে আন্তর্জাতিকভাবে শনাক্ত ও তাঁদের অবস্থান নির্ণয় এবং গ্রেপ্তারের জন্য পিবিআইয়ের অনুরোধে বাংলাদেশ পুলিশের এনসিবি-ঢাকা ইন্টারপোলের মাধ্যমে এই রেড নোটিশ জারির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। এই নোটিশের ফলে ইন্টারপোলের সদস্যদেশগুলোর আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো তাঁদের ধরতে আন্তর্জাতিক পুলিশি সহযোগিতা দিতে পারবে।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লার সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন নাট্যকর্মী ও কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনু। পরে খোঁজাখুঁজির পর সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোপের মধ্যে তাঁর লাশ পাওয়া যায়। তাঁকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়।
ঘটনার পরদিন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘ সময়েও রহস্য উদঘাটন না হওয়ায় মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তাধীন রয়েছে। সম্প্রতি ডিএনএ পরীক্ষায় তনুর পোশাকে আরও একজনের রক্ত পাওয়ার তথ্য সামনে আসে।
Comments