বিপিএলে ফিক্সিং ও দুর্নীতির অভিযোগ: বিসিবির নিষেধাজ্ঞায় তিনজন
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সদ্য সমাপ্ত ১২তম আসরে ম্যাচ ফিক্সিং, দুর্নীতির তথ্য গোপন এবং তদন্তকাজে অসহযোগিতার গুরুতর অভিযোগে এক সাবেক বোর্ড পরিচালকসহ তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দুর্নীতিবিরোধী আচরণবিধি (২০২৪) লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ার পর বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের তদন্তের ভিত্তিতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। একই সঙ্গে অভিযুক্ত তিনজনকে সব ধরনের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
যে তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তারা হলেন, ১. মুহাম্মদ মুখলেসুর রহমান (শামীম): বিসিবির সাবেক পরিচালক (২০২৫-২০২৬ মেয়াদ) ও অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান। ২. জাকির হোসেন: বিসিবির সাবেক সিকিউরিটি লিঁয়াজো অফিসার (এসএলও)। ৩. রকিবুল ইসলাম সানি: বগুড়া জেলার সাবেক বিসিবি কাউন্সিলর ও অডিট কমিটির সাবেক সদস্যসচিব।
কার বিরুদ্ধে কোন ধারায় কী অভিযোগ করা হয়েছে :
মুহাম্মদ মুখলেসুর রহমান (শামীম): তাঁর বিরুদ্ধে বিপিএলের ম্যাচে পাতানো বা ম্যাচের গতিবিধি অনৈতিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা (ধারা ২.১.১), অন্য কাউকে দুর্নীতিতে প্ররোচিত বা সহায়তা করা (ধারা ২.১.৪), দুর্নীতির প্রস্তাব পেয়েও দুর্নীতিবিরোধী কর্মকর্তাকে (ড্যাকো) না জানানো (ধারা ২.৪.৪) এবং তদন্তের তথ্য-প্রমাণ মুছে ফেলে বা ধ্বংস করে তদন্তে বাধা সৃষ্টির (ধারা ২.৪.৭) সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
জাকির হোসেন: সাবেক এই নিরাপত্তা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরাসরি ম্যাচ পাতানোর চেষ্টা (ধারা ২.১.১), অন্যকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে উৎসাহিত করা (ধারা ২.৪) এবং দুর্নীতিবিরোধী কর্মকর্তার তদন্তে অসহযোগিতা করার (ধারা ২.৪.৬) অভিযোগ আনা হয়েছে।
রকিবুল ইসলাম সানি: তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রস্তাব পাওয়ার পরও তা সময়মতো ড্যাকোকে না জানিয়ে গোপন করা (ধারা ২.৪.৪) এবং তদন্ত কর্মকর্তার চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদানে অস্বীকৃতি জানিয়ে তদন্তে অসহযোগিতা করার (ধারা ২.৪.৬) অভিযোগ রয়েছে।
বিসিবি জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি নোটিশ প্রাপ্তির পরবর্তী ১৪ দিনের মধ্যে নিজেদের পক্ষে সাফাই গেয়ে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) সময় দেওয়া হয়েছে। আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই মুহূর্তে এ বিষয়ে আর কোনো অতিরিক্ত মন্তব্য করতে রাজি নয় বিসিবি।
Comments