বদলির পরও ‘পছন্দের পোস্টিং’ নিয়ে প্রশ্ন, বন বিভাগের কর্মচারীকে ঘিরে অভিযোগ
চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগ থেকে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগে বদলির পরও পছন্দের কর্মস্থল পাওয়ার চেষ্টা করছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের বন প্রহরী (ফরেস্ট গার্ড) মো. গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে। এ নিয়ে বন বিভাগের প্রশাসনিক মহলে আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে।
সূত্রগুলোর ভাষ্য, গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী দীর্ঘদিন চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দায়িত্ব পালন করেছেন। সম্প্রতি তাঁকে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের ফৌজদারহাট চেকপোস্ট থেকে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগে বদলি করা হয়। সেখানে যোগদানের পরও পছন্দের কর্মস্থলে পদায়নের জন্য পোস্টিং প্রক্রিয়া দেরি করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
'প্রভাব খাটিয়ে পোস্টিং নেওয়ার' অভিযোগ
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বন বিভাগের কয়েকজন কর্মচারী অভিযোগ করেন, স্থানীয় পরিচিতি ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে দপ্তরের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী। তাদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ বা সুবিধাজনক এলাকায় পদায়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন।
তার বিরুদ্ধে কথা বললে বিভিন্ন মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করেছেন ওই কর্মচারীরা।
অবৈধ কাঠ ব্যবসায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ
গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ হলো, চট্টগ্রাম অঞ্চলে অবৈধভাবে গাছ কাটা ও চোরাই কাঠের কারবারে জড়িত একটি চক্রের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে। কয়েকটি সূত্রের দাবি, বন বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় চোরাই কাঠ পরিবহন ও বেচাকেনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা রয়েছে।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে কোনো মামলা, সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন, জব্দ তালিকা বা আদালতের নথি প্রতিবেদকের হাতে আসেনি।
ইউটিউব চ্যানেল ব্যবহার করে চাপ সৃষ্টির অভিযোগ
স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে সমালোচকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। কারও কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ভিডিও বা অনলাইন প্রচারের মাধ্যমে তাকে চাপে রাখার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
'বদলির পর কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ার সুযোগ নেই'
জানা যায়,২০১৬ সালে বনপ্রহরী হিসেবে চাকরিতে যোগদানের পর চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগের অধীনে শহর রেঞ্জ, করেরহাট বিট কাম স্টেশন,ফৌজদারহাট ফরেস্ট স্টেশন সহ একের পর এক লোভনীয় পোস্টিং পান।সর্বশেষ ফৌজদারহাট চেকপোস্টে এক বছর মেয়াদি পোস্টিং পেলেও উচ্চপর্যায়ের প্রভাবের কারণে এক বছরের বেশি সময় চাকরি করেন। সেখান থেকে গেল ১৭ আগষ্ট কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগে তাকে বদলি করা হয়।
তবে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আবদুল্লাহ আল মামুনের কাছে গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর বদলি করা কর্মস্থলে যোগদান এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়।
মুঠোফোনে ডিএফও আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, বদলি করা কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, 'দেশ আগের মতো নেই। কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে দিনের পর দিন কাটানোর সুযোগ নেই। বেতন কাটা যাবে।'
গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী বন কর্মকর্তাদের ওপর কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার করেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএফও বলেন, 'অনেকে অনেকভাবে প্রভাব দেখায়। এটা অস্বীকার করার কিছু নেই। অনেক সময় বিভিন্ন প্রতিকূলতায় পড়ি।'
তবে গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
বন বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। একই সঙ্গে অবৈধ কাঠ ব্যবসার সঙ্গে যোগাযোগ, প্রভাব বিস্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা সরকারি দায়িত্বের অপব্যবহারের অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি উঠেছে।
Comments