নেপালে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে ৯ শতাধিক মানুষ আটকা
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় দেশজুড়ে নজিরবিহীন ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। বিপর্যয়কর এই বন্যায় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ ও ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় ৯০০ জনেরও বেশি মানুষ আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নেপালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯১৯ জনে দাঁড়িয়েছে এবং সীমান্তের তিব্বত অংশে আরও ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নেপালে ৪ হাজার ২৪৭ জন এবং তিব্বতে ৫৪৬ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিক।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে ৯৩৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে বর্তমানে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
উদ্ধারকারী দলগুলো ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে টানেলের প্রবেশমুখে জমে থাকা কাদা ও ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেত জানান, সুড়ঙ্গের ভেতরে বিপুল পরিমাণ কাদা জমে থাকায় উদ্ধারকাজ অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে।
উদ্ধারকারী দলের সদস্য আশিস গুরুং জানান, সুড়ঙ্গের ভেতর কোথাও কোথাও কাদার গভীরতা বুক পর্যন্ত পৌঁছেছে। পর্বতারোহীরা কাঠের তক্তা ও দড়ির সাহায্যে প্রায় ১৩০ মিটার ভেতরে প্রবেশ করে কিছু মরদেহের মতো বস্তু দেখেছেন। তবে জলবিদ্যুৎ কোম্পানির নকশা অনুযায়ী সুড়ঙ্গের ভেতরে কিছু নিরাপদ আশ্রয়স্থল থাকায় আটকে থাকা মানুষের বেঁচে থাকার আশাও দেখছেন উদ্ধারকারীরা।
প্রাথমিকভাবে বিদেশি সহায়তার প্রয়োজন না বললেও, সুড়ঙ্গ থেকে মানুষ উদ্ধারে ভারত ও চীনের বিশেষজ্ঞ সহায়তা নিচ্ছে নেপাল। চীন ইতোমধ্যে ২ হাজার ১০০ জনের বেশি উদ্ধারকর্মী ও আধুনিক জীবন শনাক্তকারী সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে।
দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে হিমবাহের অস্থিতিশীলতা থেকে এ ধরনের 'ক্রায়োস্ফিয়ার দুর্যোগ' সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি।
রয়টার্সকে নেপালের দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হিমবাহের ঝুঁকি ও পানির স্তর সম্পর্কে চীন পর্যাপ্ত তথ্য আদান-প্রদান না করায় আগাম প্রস্তুতিতে ঘাটতি ছিল। আবহাওয়ার উন্নতি হওয়ায় সোমবার থেকে উদ্ধারকাজ জোরালো করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানান, প্রায় ২১ হাজার নিরাপত্তাকর্মী, বেসামরিক কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা জীবন বাঁচাতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। Red Cross-এর হিসাব অনুযায়ী, এই দুর্যোগে নেপালে ৯০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
Comments