সালমান শাহ হত্যা: ডনকে ‘ধুরন্ধর’ উল্লেখ করে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়েছে সিআইডি
চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। রিমান্ড আবেদনে তাকে 'অত্যন্ত সুচতুর ও ধুরন্ধর প্রকৃতির লোক' হিসেবে উল্লেখ করেছে তদন্ত সংস্থাটি।
সোমবার (২৪ আগস্ট) রমনা থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা (জিআরও) উপপরিদর্শক মো. শাহ আলম এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, গত ২০ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে ডনের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। আদালত আসামির উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানির জন্য আগামী ২৭ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন।
যে কারণে রিমান্ড চেয়েছে সিআইডি
রিমান্ড আবেদনে তিনটি কারণ তুলে ধরেছে তদন্ত সংস্থা। এতে বলা হয়, সালমান শাহর মৃত্যু একটি বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা। ১৯৯৬ সাল থেকে এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠে আসছে এবং বিভিন্ন সময় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে ডনকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, ডন 'অত্যন্ত সুচতুর ও ধুরন্ধর প্রকৃতির'। তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে ব্যাপক ও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ঘটনায় জড়িত অন্য সহযোগীদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হতে পারে।
এ ছাড়া বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কী কারণে এবং কার ইন্ধনে ডন বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, সে বিষয়েও তথ্য জানতে চায় সিআইডি। মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য এসব বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওমরাহ করতে যাওয়ার সময় গ্রেপ্তার
গত ৯ আগস্ট ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরব যাওয়ার সময় ডনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলার কারণে ডনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ছিল বলে জানা গেছে। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর সিআইডি তাকে হেফাজতে নেয়।
সালমান শাহ হত্যা মামলা
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসায় মারা যান সালমান শাহ। প্রথম দিকে তাঁর মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হলেও পরে এ ঘটনায় হত্যা মামলা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে মামলাটির তদন্ত ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে।
২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তাঁর ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রমনা থানায় মামলা করেন। এতে সামিরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন—সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, আশরাফুল হক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
Comments