উৎসব সুপার মার্কেটে ১০ লাখ জরিমানা
নোংরা পরিবেশে গরু ও খাসির মাংস সংরক্ষণ, একই দা-ছুরি দিয়ে দুই ধরনের মাংস প্রসেসিং, মেয়াদোত্তীর্ণ মোমোসসহ নিম্নমানের খাদ্যপণ্য বিক্রি এবং পণ্যের লেবেলিংয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগে চট্টগ্রামের উৎসব সুপার মার্কেটকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
জরিমানা অনাদায়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে অনিয়মের বিষয়ে ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আগামী ৩০ আগস্ট আদালতে সশরীরে হাজির হতে সুপার মার্কেট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) চট্টগ্রামের উৎসব সুপার মার্কেটে অভিযান ও সংক্ষিপ্ত বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন মোহাম্মদ মোস্তফা, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত, চট্টগ্রাম মহানগর।
ভোক্তার জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে পরিচালিত অভিযানে উৎসব সুপার মার্কেটের মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ বিভাগে বেশ কিছু গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়ে।
অভিযানে দেখা যায়, নোংরা পরিবেশে গরু ও খাসির মাংস সংরক্ষণ করা হচ্ছে। আলাদা কাটিং বোর্ড ব্যবহারের বিধান থাকলেও একই কাঠের গড়িয়া ও দা-ছুরি দিয়ে গরু ও খাসির মাংস প্রসেস করা হচ্ছিল।
এ ছাড়া ফ্রিজিং প্রোডাক্ট ও কোল্ড স্টোরেজ ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা হচ্ছিল না। অভিযানে নষ্ট মরিচ, মেয়াদোত্তীর্ণ মোমোস, নষ্ট মশলা ও চকলেট পাওয়া যায়। পপকর্ন ও ক্যারামেল ভাজার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হচ্ছিল খোলা তেল।
শুধু খাদ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণেই নয়, পণ্যের লেবেলিংয়েও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়।
অভিযানে দেখা যায়, কিছু খেজুরের প্যাকেটে মেয়াদের তথ্য উল্লেখ নেই। বিদেশি জুস, মধু, পানি, বাদাম ও এনার্জি ড্রিংকসে বাংলায় প্রয়োজনীয় পুষ্টিতথ্যও দেওয়া হয়নি।
এমনকি নিজস্ব স্টিকার লাগিয়ে পণ্যের মূল তথ্য আড়াল করার ঘটনাও ধরা পড়ে।
অভিযোগ রয়েছে, নিবন্ধন ও অনুমোদন ছাড়াই শিশুখাদ্য, ফুড সাপ্লিমেন্ট এবং মানহীন হোমমেইড আচার বিক্রি করছিল প্রতিষ্ঠানটি।
অভিযানে তথাকথিত বিদেশি ফলমূলের ক্রয়মূল্যের রসিদ ও আমদানিকারকের বৈধ কাগজপত্রও কর্তৃপক্ষ দেখাতে পারেনি।
এসব অনিয়মকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ৫৮ ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের নির্দেশে আচারের পুষ্টিতথ্য এবং অনুমোদনহীন হোমমেইড পণ্য বিক্রি তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা হয়েছে।
এ ছাড়া আমদানিকৃত ফলের ক্রয়মূল্যের রসিদ ও আনুষঙ্গিক প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণসহ ৩০ আগস্ট (রোববার) উৎসব সুপার মার্কেটের মালিকপক্ষকে আদালতে সশরীরে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই দা-ছুরি দিয়ে গরু-খাসির মাংস প্রসেসিং থেকে শুরু করে মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য ও লেবেলিংয়ে অনিয়ম—অভিযানে একের পর এক অসঙ্গতি ধরা পড়ায় ১০ লাখ টাকার এই জরিমানা করা হয়।
Comments