ফরিদপুরে মাদক ও আধিপত্য বিস্তারে পাল্টাপাল্টি হামলা: পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর, আহত ২
ফরিদপুরে মাদকসংক্রান্ত বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আহতদের উদ্ধার করতে গিয়ে উত্তেজিত লোকজনের হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ। ভাঙচুর করা হয়েছে থানা-পুলিশের ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যান। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের গোলজারমণ্ডলের ডাঙ্গী ও আক্কাচ আলীর মোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। শনিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদুল হাসান।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ আগস্ট স্থানীয় শাকিল নামে এক যুবক ও তাঁর সহযোগীদের ইয়াবা সেবনের ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করেন ওমান প্রবাসী টুলু মিয়া ও তাঁর সঙ্গীরা। পরে সেই ভিডিও দেখিয়ে অর্থ দাবি করার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার জেরে শুক্রবার বিকেলে টুলু মিয়ার সমর্থকেরা ১৫ থেকে ২০টি মোটরসাইকেল নিয়ে এসে প্রতিপক্ষের মুদিদোকানি বক্কার শিকদার ও মান্নানকে মারধর করেন।
এই খবর ছড়িয়ে পড়লে বক্কারের পক্ষের লোকজন সংগঠিত হয়ে পাল্টা আক্রমণ চালায়। তারা টুলু মিয়াকে না পেয়ে তাঁর বাবা রাজা মিয়া (৭০) ও স্থানীয় জয়নাল শিকদারকে (৬৫) মারধর করে ঘিরে রাখে।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধারের চেষ্টা করলে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা বাধা দেয়। একপর্যায়ে তারা পুলিশের পিকআপ ভ্যানে হামলা চালিয়ে পর্দা ছিঁড়ে ফেলে এবং গাড়ির চাবি কেড়ে নেয়। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যসহ ওসি মো. মাহামুদুল হাসান ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মো. মাহামুদুল হাসান বলেন, "স্থানীয় আধিপত্য ও মাদক সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। আহতদের উদ্ধার করতে গেলে পুলিশের ওপর হামলা ও পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর করা হয়, এতে গাড়িটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।"
ওসি আরও জানান, সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি এবং ঘটনায় জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
Comments