ঐতিহাসিক জয়ের পরই ব্যাটিং ধস, ৬৪ রানে অলআউট বাংলাদেশ
ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের পর ম্যাকাই টেস্টে ব্যাট হাতে চরম ব্যর্থ হলো বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের পেস আক্রমণের সামনে মাত্র ৬৪ রানেই গুটিয়ে গেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এটি বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে চতুর্থ সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। মিচেল স্টার্কের দুর্দান্ত পেসে মাত্র ১২ রানেই পাঁচ উইকেট হারায় সফরকারীরা। মাত্র ২২ বলের মধ্যে পাঁচ বাংলাদেশি ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরান বাঁহাতি এই পেসার।
বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুতেই সাদমান ইসলামকে ক্যামেরন গ্রিনের হাতে ক্যাচে পরিণত করেন অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা। এরপর মিচেল স্টার্কের পরপর দুই বলে আউট হন তানজিদ হাসান তামিম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তিনজনই রানের খাতা খুলতে পারেননি।
এরপর মুমিনুল হক ৯ রান করে স্টার্কের শিকার হন। লিটন দাসও কোনো রান না করেই ফিরে গেলে ৬.৪ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ১২ রানে ৫ উইকেট। ওই সময় চার ওভার বল করে তিনটি মেডেনসহ মাত্র চার রান দিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন স্টার্ক।
দলের বিপর্যয় আরও বাড়ে মুশফিকুর রহিমের বিদায়ে। ৪২ বল খেলে মাত্র ৫ রান করেন তিনি। ২১ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সামনে টেস্ট ইতিহাসে নিজেদের সর্বনিম্ন সংগ্রহের রেকর্ডের শঙ্কা তৈরি হয়।
তবে মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদের ব্যাটে সাময়িকভাবে স্বস্তি ফেরে। দুজনের জুটিতে প্রথম সেশন শেষ করে বাংলাদেশ। বিরতির সময় মিরাজ ১১ ও হাসান ৮ রানে অপরাজিত ছিলেন।
দ্বিতীয় সেশনে বল হাতে নিয়ে জুটি ভাঙেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। ১১ রান করে বেউ ওয়েবস্টারের ক্যাচে পরিণত হন মিরাজ। পরের ওভারেই জশ হ্যাজেলউডের বলে নাথান লায়নের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন হাসান মাহমুদ, তার ব্যাট থেকে আসে ১০ রান।
এরপর তাসকিন আহমেদকেও ফেরান কামিন্স। ৩৯ রানে নবম উইকেট হারানোর পর বাংলাদেশের সামনে নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে সর্বনিম্ন ৪৩ রানে অলআউট হওয়ার শঙ্কা দেখা দেয়।
শেষ পর্যন্ত তাইজুল ইসলাম সেই লজ্জা থেকে দলকে রক্ষা করেন। ৩০তম ওভারের শেষ বলে হ্যাজেলউডকে চার মেরে বাংলাদেশের রান ৪৩-এর ওপরে নিয়ে যান তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত ৬৪ রানেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস।
বাংলাদেশের একাদশে একটি পরিবর্তন ছিল। চোট কাটিয়ে দলে ফেরেন পেসার শরিফুল ইসলাম। তার জায়গা হয় ইবাদত হোসেনের পরিবর্তে।
বাংলাদেশের একাদশ: সাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান তামিম, মুমিনুল হক, নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), মেহেদী হাসান মিরাজ, হাসান মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম।
অস্ট্রেলিয়ার একাদশ: ট্রাভিস হেড, ম্যাট রেনশ, মার্নাস লাবুশেন, স্টিভেন স্মিথ, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যালেক্স ক্যারি (উইকেটরক্ষক), বেউ ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), মিচেল স্টার্ক, নাথান লায়ন ও জশ হ্যাজেলউড।
Comments