দিল্লির পথে তারেক: ‘ভারতবিরোধী’ রাজনীতির বাজারে এবার বাস্তবতার পরীক্ষা
ভারত বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিবেশি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সফলই হয়েছে ভারতীয় সহযোগিতায়,ভারতের অংশগ্রহণে। রয়েছে সুদীর্ঘ ঐতিহা্সিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন। এরপরও সম্পর্ক মাঝে মাঝে পথ হারায়। ২০২৪ এর আগস্ট-এ বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ভারত-বিরোধী মনোভাব প্রচন্ডভাবে জাগিয়ে তোলা হয়। এর বড় ফায়দা নিয়েছেন অন্তবর্তী সরকার প্রধান অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনূস। যদিও এখন জানা যাচ্ছে একটা পর্যায়ে আমন্ত্রণ ছাড়াই তিনি ভারত যেতে চেয়েছিলেন সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য।
২০২৬ এর নির্বাচনে যদি বিএনপি না জয়ী হতো তাহলে এই ভারত বিরোধিতা কোথায় গিয়ে দাঁড়াতো তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু প্রতিবেশি তো বদলানো যায় না। কাঁচা মিরচের সংকট, হাতা বাড়াও ভারতে। ডিজেলের সংকট, ভরসা ভারত। পোঁজ, চাল, শিল্প খাতের কাঁচামাল – নিকটতম উৎস ভারত।
এখন প্রশ্ন উঠেছে এই সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে কেমন করে? ভারত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-কে ভারত সফরে নিয়ে যেতে চায়। বিরোধীতায় আছে এনসিপি সহ ইসলামি অনেকগুলো দল, গোষ্ঠী ও ব্যক্তি যাদের বড় রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পুঁজিই হলো ভারত বিরোধিতা।
নানা জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এখন মোটামুটি একটা ধারণা পাওয়া যাচ্ছে, চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে দুইদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারত যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এনিয়ে এরইমাঝে ভারতীয় গণমাধ্যমের ব্যাপক আগ্রহ। শীর্ষ গণমাধ্যমগুলো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎকারের জন্যে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।
নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে বৈঠক ছাড়াও তার সফর ঘিরে সরগরম পুরো অঞ্চলের রাজনীতি। কিন্তু অর্থনৈতিক সংকট আর ভূ-রাজনৈতিক দোলাচলের মাঝে দাঁড়িয়ে কতটা সফল হতে পারে এই দিল্লি সফর?
সফরের শীর্ষ ৫ ইস্যু
এই সফরের টেবিলজুড়ে থাকছে পাঁচটি প্রধান বিষয়: প্রথমেই আসবে পানি বণ্টন চুক্তি: নবায়ন হতে যাওয়া গঙ্গার পানি চুক্তি এবং তিস্তার পানির হিস্যা। এরপর বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গ: দেশীয় বিদ্যুৎ ঘাটতি কাটাতে ভারত এবং ভারত হয়ে নেপাল থেকে বাড়তি বিদ্যুৎ আমদানির রোডম্যাপ। আছে জ্বালানি নিরাপত্তা ইস্যু: অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে সরাসরি জ্বালানি তেল আমদানি প্রক্রিয়া। এবং আইনি ও রাজনৈতিক ইস্যু: আলোচিত ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের আসামিদের প্রত্যার্পণ চুক্তি।
আলাদা করে থাকছে শেখ হাসিনার অবস্থান: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান সংক্রান্ত ত্রিপক্ষীয় কূটনৈতিক সমীকরণ।
কূটনৈতিক সফলতার সম্ভাবনা কোথায়?
দিল্লিতে মোদি সরকার ছাড়াও ভারতীয় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। ভারতের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো মিত্রদের বার্তা স্পষ্ট-স্থায়িত্ব আর বাণিজ্যই এখন মূল অগ্রাধিকার। ঢাকার মূল লক্ষ্যও তাই পাকিস্তান কিংবা তুরস্কের মতো কৌশলগত সম্পর্কের চেয়ে বাণিজ্য ও প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগে প্রাধান্য দেয়া।
কেন সফরটি সফল হতে পারে:
ভারত সফর ঘিরে দিল্লির বিনিয়োগকারী দল ও ভারতীয় গণমাধ্যমের ব্যাপক আগ্রহ দৃশ্যমান। জ্বালানি সংকট নিরসন এবং পানি চুক্তিতে বড় সমঝোতা এলে তা ঢাকার জন্য বিশাল কূটনৈতিক সাফল্য এনে দেবে।
প্রতিবন্ধকতা ও চ্যালেঞ্জ:
শেখ হাসিনা ইস্যুর কূটনৈতিক ফয়সালা রাজনৈতিক পটভূমিতে বিশাল প্রভাব ফেলবে।
অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক চাপ কাটিয়ে জাতীয় স্বার্থ কতটা রক্ষা করা সম্ভব হবে,সেটিই এখন বড় পরীক্ষা।
রাজনৈতিক অঙ্গনের নানা জটিলতা ও প্রতিপক্ষের বিরোধিতার বাধা পেরিয়ে এই সফর শুরু হতে যাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়,ঢাকার জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে এই সফর থেকে বিনিয়োগ এবং জ্বালানি নিরাপত্তার কতটুকু বাস্তব সমাধান আনা সম্ভব হয়।
Comments