আগামী সপ্তাহে ভারত সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: এনডিটিভি
আগামী সপ্তাহের শেষার্ধে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ঢাকা ও দিল্লির একাধিক কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে। এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর হতে যাচ্ছে।
সফরের মূল এজেন্ডা ও প্রস্তুতি
নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুই নেতার বৈঠকে বাণিজ্য ও ট্রানজিট, জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং দুই দেশের মধ্যকার যোগাযোগ বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো স্থান পাবে। আগামী ডিসেম্বরে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে চলায়, চুক্তিটি নবায়ন সংক্রান্ত আলোচনা এই সফরে বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। দুই দিনের এই দ্বিপাক্ষিক সফরের প্রস্তুতি দুই দেশেই চলছে। তবে সফরের নির্দিষ্ট তারিখ ও সূচির খুঁটিনাটি বিষয়গুলো এখনো চূড়ান্তকরণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নয়াদিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত। এছাড়া আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনেও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে দেশটি।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কে কিছু টানাপোড়েন তৈরি হয়। তবে নতুন বিএনপি সরকার ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক ও সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত এপ্রিলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নয়াদিল্লি সফর করে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। এছাড়া গত ১০ আগস্ট ঢাকায় তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা। ভারত জানিয়েছে, তারা প্রচলিত আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় অনুরোধটি খতিয়ে দেখছে।
সম্প্রতি শেখ হাসিনার একটি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হলেও, ঢাকা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া উচিত নয়। এসব অমীমাংসিত ইস্যু এবং পারস্পরিক কৌশলগত স্বার্থের সুরাহার ক্ষেত্রে আসন্ন এই সফরটিকে দুই দেশের নতুন রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রথম বড় কূটনৈতিক পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
Comments