অং সান সু চির সঙ্গে রেডক্রস প্রতিনিধির সাক্ষাৎ: হঠাৎ আয়োজনের নেপথ্যে কী?
মিয়ানমারে বন্দিদশায় থাকা দেশটির সাবেক নেত্রী ও নোবেলজয়ী অং সান সু চির সঙ্গে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) এক প্রতিনিধির সাক্ষাৎ হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ৮১ বছর বয়সী এই নেত্রীর স্বাস্থ্য ও অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ার প্রেক্ষাপটে মিয়ানমার সরকার নিজেই এই বৈঠকের ঘোষণা দিয়েছে।
মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র খাইন খাইন সোয়ে টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে জানান, রাজধানী নেপিডোতে মিয়ানমারে নিযুক্ত আইসিআরসির আবাসিক প্রতিনিধি আরনো দ্য বেকের সঙ্গে সু চির দেখা হয়েছে। রয়টার্সের প্রকাশিত তথ্যেও এই সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর এই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্দি সু চির সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেলেন।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে সু চি ঠিক কোথায় এবং কোন অবস্থায় আছেন, তা নিয়ে কখনোই নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কোনো বিদেশি রাষ্ট্রনেতা বা স্বাধীন দূতকেও তাঁর সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
গত এপ্রিলে সাবেক জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ দাবি করে যে, সু চিকে গোপন কারাগার থেকে গৃহবন্দীতে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে তা সত্ত্বেও তাঁর জীবিত থাকার বিশ্বাসযোগ্য ও স্বাধীন কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন তাঁর ছেলে কিম অ্যারিস। তিনি বারবার দাবি করে আসছেন, ৮১ বছর বয়সী তাঁর মাকে এক গোপন স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে দেওয়া মানে মুক্তি নয়, বরং তাঁকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে। এমনকি সম্প্রতি ভারত সরকার মিন অং হ্লাইংকে উষ্ণ অভ্যর্থনা দেওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে মানবাধিকারের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান কিম অ্যারিস।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক মহলের ক্রমবর্ধমান চাপ এবং সু চির স্বাস্থ্য নিয়ে চলা গুঞ্জন বা সমালোচনার মুখ বন্ধ করতেই মিয়ানমার জান্তা সরকার হঠাৎ করে এই বৈঠকের আয়োজন করেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাকে প্রবেশাধিকার দিয়ে তারা বিশ্ববাসীর কাছে নিজেদের ভাবমূর্তি কিছুটা ইতিবাচক করার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিচার প্রক্রিয়ার নামে প্রহসনের মাধ্যমে অং সান সু চিকে প্রথমে ৩৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও, চলতি বছরের শুরুতে সাধারণ ক্ষমার আওতায় তাঁর সাজা কমিয়ে ১৮ বছর করা হয় এবং তাঁকে নির্জন কারাবাস থেকে গৃহবন্দীতে রাখা হয়।
Comments