কঙ্গোয় দ্রুত ছড়াচ্ছে ইবোলা: মৃত্যু ১৩০০ ছাড়াল
আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোয় ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণে পরিস্থিতি দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। দেশটিতে ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৩০৯ জনে দাঁড়িয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে দেশটিতে সংক্রমণ ৪০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশটিতে ইবোলায় নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৭৩ জনে এবং মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৩০৯ জনের। আগের সপ্তাহের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি। কঙ্গোয় ইবোলা সংক্রমণের বর্তমান গতি আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এটি এখন পর্যন্ত নথিভুক্ত সবচেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ইবোলা মহামারি হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। বর্তমানে দেশটিতে ইবোলার বিরল 'বুনদিবুগিও' ধরনটি বেশি ছড়াচ্ছে। এই ধরনের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো অনুমোদিত টিকা বা কার্যকর চিকিৎসা না থাকায় এবং মৃত্যুর হার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারায় ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। সংঘাতকবলিত ও সম্পদস্বল্প এলাকায় প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা চরম চাপের মুখে পড়েছে।
আফ্রিকার রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি আফ্রিকা) পরামর্শক আবদুলসালামি নাসিদি জানান, কার্যকর টিকা না থাকায় এই ভাইরাসটি রীতিমতো 'দাবানলের মতো' ছড়িয়ে পড়ছে। এর আগে ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে পশ্চিম আফ্রিকায় ছড়িয়ে পড়া ইবোলা মহামারিতে প্রথম ১ হাজার রোগী শনাক্ত হতে প্রায় আট মাস সময় লেগেছিল, অথচ কঙ্গোয় প্রথম ১ হাজার রোগী শনাক্ত হয়েছে ১০ সপ্তাহেরও কম সময়ে।
ইবোলার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে বিজ্ঞানীরা কাজ করে যাচ্ছেন। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন গ্রুপ দ্রুততম সময়ে একটি নতুন টিকা প্রস্তুত করেছে এবং গত শুক্রবার এক স্বেচ্ছাসেবকের শরীরে এর প্রথম পরীক্ষামূলক ডোজ প্রয়োগ করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, বুনদিবুগিও ধরনের বিরুদ্ধে লড়তে এই টিকা আবিষ্কারের প্রচেষ্টা এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
Comments