কে হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি, আলোচনায় কারা?
সংবিধানের বিধান অনুযায়ী এবং জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে দেশটির পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হতে যাচ্ছেন এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে কারা আলোচনায় রয়েছেন—তার একটি সংক্ষিপ্তসার নিচে তুলে ধরা হলো:
মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। যেহেতু সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, তাই দলীয় প্রার্থীই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
আলোচনায় যাঁরা রয়েছেন
রাজনৈতিক অঙ্গনে ও দলের নীতিনির্ধারণী মহলে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে:
- মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: দলের মহাসচিব হিসেবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়ে জোর আলোচনা রয়েছে।
- ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন: বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই জ্যেষ্ঠ সদস্যের নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।
- ড. মঈন খান: দলের স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য।
- নজরুল ইসলাম খান: স্থায়ী কমিটির এই নেতার নামও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে।
- গয়েশ্বর চন্দ্র রায়: স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে তাঁর নামও আলোচনায় এসেছে।
- হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও আলতাফ হোসেন চৌধুরী: বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীর নামও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে।
দলের নীতিনির্ধারকদের অবস্থান
বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মতে, রাষ্ট্রপতি পদটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ হওয়ায় দল থেকে এমন কাউকে বেছে নেওয়া উচিত যিনি পরীক্ষিত, দলের প্রতি বিশ্বস্ত এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শের অনুসারী। পাশাপাশি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকেই কাউকে এই পদে আসীন করার পক্ষে জোর দিচ্ছেন দলীয় নেতারা, যাতে রাজনৈতিক নৈতিকতা ও পারস্পরিক সম্মানবোধ বজায় থাকে।
সবশেষে, ভূরাজনৈতিক সমীকরণ এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন স্থায়ী কমিটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত দলই আলোচনার মাধ্যমে নেবে। দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হলে প্রার্থীও দলেরই হবেন। এরপর নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে বিষয়টি জাতীয় সংসদে ভোটের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে। রাষ্ট্রপতির মনোনয়ন বিএনপির ভেতর থেকেই হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য।
তবে ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় রাজনৈতিক বলয়ের বাইরে থাকা কোনো অরাজনৈতিক ব্যক্তির রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনাও নানা সমীকরণের ওপর নির্ভরশীল। পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন স্থায়ী কমিটি থেকেই।
Comments