স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সশস্ত্র বাহিনী চায় ইসি, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ২১ জুলাই
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী তথা সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে আগামী ২১ জুলাই (মঙ্গলবার) এক কমিশন সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা আইন ও বিধিমালার সংশোধনী প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হবে।
সংশোধনী প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হওয়ার পর তা আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং ও সরকারের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকারের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের আচরণবিধির খসড়াও এই সভায় চূড়ান্ত করা হবে।
বর্তমান আইন অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তালিকায় পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও আনসার থাকলেও সশস্ত্র বাহিনী নেই। ইসি এখন সশস্ত্র বাহিনীকে এই সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করতে চায়। নির্দলীয় নির্বাচনের রূপ দিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে মোট ভোটারের ১ শতাংশের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর সংগ্রহের বাধ্যবাধকতা বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে।
সংশোধনী পাস হলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা ভোটে অংশ নিতে পারলেও, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগে পদত্যাগ করতে হবে।
জামানত বৃদ্ধি:
-
-
সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী: ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
-
পৌরসভার মেয়র প্রার্থী: ১ লাখ টাকা।
-
ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী: ২৫ হাজার টাকা (আগে ছিল ২০ হাজার)। (উপজেলা পরিষদের জামানত দুই বছর আগে বাড়ানোয় এবার তা অপরিবর্তিত থাকছে।)
-
নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগস্টে তপশিল ঘোষণা করে অক্টোবরে ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) অথবা পৌরসভা নির্বাচন শুরু হতে পারে। ইউপি ও পৌরসভার গঠনের ওপর ভিত্তি করে উপজেলা নির্বাচন পরে অনুষ্ঠিত হবে। তবে সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদ নির্বাচনের বিষয়টি সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
আচরণবিধি সংশোধনের খসড়ার ওপর ইসি নিবন্ধিত ৫৬টি রাজনৈতিক দলের লিখিত মতামত চেয়েছিল। তবে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ সিংহভাগ বড় রাজনৈতিক দলই সাড়া দেয়নি। মাত্র দু-একটি ইসলামী দল এবং ব্যক্তি পর্যায় থেকে সব মিলিয়ে ১১টির মতো মতামত এসেছে। নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, আচরণবিধি চূড়ান্ত করার আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইসি আর কোনো সংলাপে বসবে না।
Comments