পাঁচ জেলায় পাহাড়ধস: দুই শতাধিক ঘটনায় ২৬ জনের মৃত্যু
চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় ৫ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত টানা ভারী বৃষ্টিতে দুই শতাধিক স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে ২৬ জনের প্রাণহানি হয়েছে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে কক্সবাজারে (যার মধ্যে উখিয়া রোহিঙ্গা শিবিরের ১৩ জন রয়েছে)। এ ছাড়া বান্দরবানে ৫ জন, চট্টগ্রামে ২ জন এবং রাঙামাটিতে ২ জন মারা গেছেন।
গবেষকদের মতে, মূলত চারটি প্রধান কারণে এই অঞ্চলে পাহাড়ধস আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে: ১. মাটির দুর্বল গঠন: পাহাড়ের মাটি বালু, পলি ও নরম কাদার মিশ্রণ হওয়ায় অতিবৃষ্টিতে দ্রুত ধসে পড়ে। ২. বন উজাড় ও জুমচাষ: নির্বিচারে গাছ কাটা এবং ঐতিহ্যবাহী জুমচাষের পরিবর্তনের ফলে মাটির ক্ষয় রোধকারী গাছের শিকড় কমে গেছে। ৩. অপরিকল্পিত উন্নয়ন: কোনো ভূতাত্ত্বিক জরিপ ছাড়াই সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে পাহাড় কাটা। ৪. প্রাকৃতিক বিন্যাস ধ্বংস: পাহাড়ের গোড়া কেটে খাড়া ঢাল তৈরি করে ঝুঁকি বাড়ানো।
তদন্তে দেখা গেছে, মৃত ব্যক্তিরা সবাই পাহাড়ের পাদদেশে বা খাড়াভাবে কাটা পাহাড়ের নিচে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি গড়েছিলেন। পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের দাবি—পাহাড় কাটার আগাম কোনো তথ্য বা পূর্বাভাস তাদের কাছে ছিল না। দুর্ঘটনা ঘটার পর এখন জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। অবহেলা ও তদারকির অভাবে এই প্রাণহানি প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়নি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
Comments