ভারী বর্ষণে হাঁটু পানিতে নিমজ্জিত চট্টগ্রাম
টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে আবারও পানির নিচে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন নিচু এলাকা। আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, চকবাজার, কাপাসগোলা, কাতালগঞ্জ, রহমতগঞ্জ, শুলকবহর, আগ্রাবাদ ও হামজারবাগসহ বিস্তীর্ণ এলাকার সড়ক এখন হাঁটু সমান পানিতে নিমজ্জিত। এতে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তবে মাঠপর্যায়ের এই বাস্তব চিত্রের মধ্যেই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) 'উল্লেখযোগ্য জলাবদ্ধতা হয়নি' এমন দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
টানা বৃষ্টিতে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। হামজারবাগ এলাকার বাসিন্দা জাহিদ ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সামান্য বৃষ্টিতেই বাসার নিচতলা ও রাস্তায় পানি জমে যায়। এটা আমাদের জন্য নতুন কিছু নয়।" বহদ্দারহাটের চাকরিজীবী হেফাজুতুল ইসলাম জানান, হাঁটু পানি মাড়িয়ে অফিসে যাওয়ার সময় রিকশা পাওয়াই দুষ্কর, আর পাওয়া গেলেও গুণতে হচ্ছে দ্বিগুণ ভাড়া। জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাওয়া এখন ভাগ্যের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, নিম্নচাপের প্রভাবে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বৃষ্টিপাত আরও অব্যাহত থাকতে পারে। নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি থাকায় সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নগরবাসীর অভিযোগ, জলাবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘদিন ধরে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও, ভারী বৃষ্টি ও জোয়ারের সময় পরিস্থিতি আগের মতোই নাজুক থাকে।
নগরের বিভিন্ন এলাকা যখন পানির নিচে, ঠিক তখনই সোমবার চসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে যান চসিক মেয়র শাহাদাত হোসেন। পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের মেয়র বলেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত মনিটরিংয়ের কারণে দুই দিনের টানা বৃষ্টিতেও চট্টগ্রাম মহানগরীতে উল্লেখযোগ্য কোনো জলাবদ্ধতা হয়নি। তিনি চট্টগ্রামের সবগুলো সেবা সংস্থাকে নিয়ে কাজ করার জন্য একটি শক্তিশালী কমিটি করে দিয়েছেন।"
মেয়র আরও দাবি করেন, খাল, নালা ও ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং সার্বক্ষণিক নজরদারির কারণেই টানা বৃষ্টির পরও নগরীর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। একই দিন চসিকের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও মেয়রের এই দাবির স্বপক্ষে পোস্ট দেওয়া হয়।
তবে বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে চসিকের এই দাবির কোনো মিল না থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন নেটিজেনরা। মো. কামরুল হাসান বাপ্পা নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী চসিকের পোস্টে মন্তব্য করেন, "৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম নিমতলা, দুইতলা মসজিদ ও আব্দুল লতিফ রোডের খালটা একটু ভিজিট করে যাওয়ার নিমন্ত্রণ রইল।" মোহাম্মদ রাফি নামে আরেকজন সরাসরি পানির মধ্য থেকে মন্তব্য করে লিখেছেন, "খালের কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় কাজীরহাট ও কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকায় পানি উঠেছে। দয়া করে খালের কাজ দ্রুত শেষ করুন।"
Comments