এক ইঞ্চি জায়গা তো দূরের কথা, একটা বালুর ওপরেও কাউকে পা রাখতে দেবো না: ডা. শফিকুর রহমান
দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, "দেশটা আমাদের সবার। তাই দেশের এক ইঞ্চি জমি তো দূরের কথা, বহিরাগত কাউকেই এ দেশের একটা বালুর ওপরেও অন্যায়ভাবে পা রাখতে দেবো না।"
শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে নেত্রকোণা সার্কিট হাউসের মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সীমান্ত সমস্যা ও জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "সীমান্তে যেকোনো ধরনের আগ্রাসন বা সমস্যা নিয়ে যদি বর্তমান সংসদ থেকে একটি ঐক্যবদ্ধ ও জোরালো আওয়াজ উঠতো, তবে তা বিশ্বজুড়ে এই ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিতো যে বাংলাদেশ একটি ইস্পাতকঠিন ঐক্যবদ্ধ জাতি। বর্তমান সংসদের ৩৪৮ জন সদস্যই পুরো দেশের মানুষের একক প্রতিনিধিত্ব করেন।"
তিনি আরও বলেন, "সীমান্ত সুরক্ষায় আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির পাশাপাশি দেশের সাধারণ জনগণও বিজিবি হয়ে পাহারায় দাঁড়িয়ে যাবে। বিজিবির হাতে থাকবে সীমান্ত রক্ষার রাষ্ট্রীয় অস্ত্র, আর এ দেশের মানুষের হাতে থাকবে বুকভরা দেশপ্রেমের মহাশক্তিশালী অস্ত্র। অতীতেও দেশের বহু ক্রান্তিলগ্নে সাধারণ মানুষ এভাবে রুখে দাঁড়িয়েছিল বলেই শত্রুপক্ষ কিছুই করতে পারেনি।"
রাষ্ট্র পরিচালনায় সমতা ও ইনসাফের ওপর জোর দিয়ে জামায়াত আমির সরকারের উন্নয়ন বরাদ্দে বৈষম্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, 'বর্তমান সরকারের আমলে দেখা যাচ্ছে, যেসব নির্বাচনী এলাকায় সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা রয়েছেন, সেসব এলাকায় বিপুল পরিমাণ উন্নয়ন বরাদ্দ ও অনুদান দেওয়া হচ্ছে। অথচ যেসব এলাকায় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা বিজয়ী হয়েছেন, সেসব এলাকাকে একই ধরনের বরাদ্দ বা অনুদান থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।'
তিনি নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশে বলেন, 'আইন ও সাংবিধানিক নৈতিকতা অনুযায়ী যারা দেশের শাসনভার পরিচালনা করেন, তারা দেশের প্রতিটি নাগরিক এবং দেশের প্রতি ইঞ্চি ভূমির প্রতি সমানভাবে দায়িত্বশীল। তারা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, বিশেষ এলাকা, গোষ্ঠী কিংবা নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের জন্য বরাদ্দ বণ্টন করতে পারেন না; বরং সমগ্র দেশের জনগণের ট্যাক্সের টাকায় সবার জন্য সমতার ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করাই তাদের আইনি ও নৈতিক কর্তব্য।'
মতবিনিময় সভায় জেলা জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট নাগরিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
Comments