ক্যাশলেস বাংলাদেশের লক্ষ্যে দেশে ১০ লাখ কিউআর কোড চালু: লেনদেন বেড়েছে ১৫ শতাংশ
দেশে নগদ অর্থের (ক্যাশ) ব্যবহার কমিয়ে দ্রুত একটি 'ক্যাশলেস সোসাইটি' বা ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে বড় অগ্রগতি হয়েছে। বর্তমানে সারাদেশে বিভিন্ন মার্চেন্ট পয়েন্টে প্রায় ১০ লাখ কুইক রেসপন্স (QR) কোড চালু রয়েছে, যার ৯০ শতাংশেরও বেশি ইতিমধ্যে সর্বজনীন 'বাংলা কিউআর' কোডে রূপান্তর করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নতুন যুগান্তকারী নির্দেশনার পর প্রথম দিনেই মার্চেন্ট পর্যায়ে ডিজিটাল লেনদেন বেড়েছে ১৫ শতাংশের বেশি।
ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে সহজ ও সর্বজনীন করতে বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১ জুলাই থেকে দেশের সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানে একক বা সর্বজনীন 'বাংলা কিউআর কোড' ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে। এর ফলে ক্রেতারা এখন যেকোনো একটি কিউআর কোড স্ক্যান করেই বিকাশ, নগদ, রকেট কিংবা যেকোনো ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে অনায়াসে বিল পরিশোধ করতে পারছেন।
অনেকের মনেই ডিজিটাল লেনদেনে অতিরিক্ত খরচ নিয়ে এক ধরনের ধোঁয়াশা থাকে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, বাংলা কিউআর কোডের মাধ্যমে মার্চেন্ট পেমেন্টের ক্ষেত্রে সেবা ফি বা ভ্যাটসহ সর্বনিম্ন ১ শতাংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (MDR) প্রযোজ্য হবে।
এই এমডিআর বা সেবা ফি কোনোভাবেই গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে কাটা যাবে না। গ্রাহক দোকানে যে টাকার কেনাকাটা করবেন, তাঁর হিসাব থেকে ঠিক সেই পরিমাণ টাকাই কাটবে। এই ১ শতাংশ ফি মূলত মার্চেন্ট বা দোকানদারের প্রাপ্য লভ্যাংশ থেকে কর্তন করা হবে। ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করতে সম্প্রতি এই লভ্যাংশের হার কিছুটা বৃদ্ধিও করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
নতুন এই উদ্যোগকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা স্বাগত জানালেও বাজারে এখনো এর ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী অনেক মার্চেন্ট এখনো তাদের নির্ধারিত বাংলা কিউআর কোড হাতে পাননি।
মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস 'নগদ'-এর প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ জানান, 'আমরা গত ২৫ জুন থেকে বাজারে বাংলা কিউআর ছড়িয়ে দিতে জোরালো কাজ শুরু করেছি। বাস্তবায়নের জন্য মাত্র এক সপ্তাহ সময় পাওয়ায় মাঠ পর্যায়ে সাময়িক কিছু জটিলতা তৈরি হলেও, সামগ্রিকভাবে মার্চেন্টদের কাছ থেকে আমরা অভাবনীয় ও ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি। এর ফলে লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে।'
বাংলা কিউআর কোড দ্রুত দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দিতে কেবল ব্যাংকিং খাত নয়, সরকারের অন্যান্য সংস্থাকেও যুক্ত করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, 'শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকের একক উদ্যোগে এই বিশাল কার্যক্রম সম্পূর্ণ সফল করা সম্ভব নয়। ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়তে সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ইতিমধ্যে সরকারের বিভিন্ন উচ্চপর্যায় থেকে আমরা অত্যন্ত ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি, যা এই রূপান্তরকে আরও ত্বরান্বিত করবে।'
Comments