বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৭টি চুক্তি: অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কে নতুন দিগন্ত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়াতে মোট ১৭টি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্যে দুই দেশের সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি বাণিজ্য ও রাজনৈতিক দল পর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি রয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে বেইজিংয়ের দিয়াওতাই হোটেলের কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের এই বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহাদী আমিন। রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা বাসস এই খবর প্রকাশ করেছে।
মুখপাত্র মাহাদী আমিন জানান, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সেই আলোচনার ভিত্তিত্তে এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও চীনা নেতৃত্বের সম্মতিতে মোট ১৭টি মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীদের উপস্থিতিতে উভয় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৩টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য, অবকাঠামো ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং চীনের বিভিন্ন ব্যবসায়ী অংশীজনদের মধ্যে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগের নতুন দুয়ার উন্মোচন করবে।
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে রাজনৈতিক সম্পর্ক দৃঢ় করতে ১টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তিটি হয়েছে বাংলাদেশে বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা রাজনৈতিক দল 'বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)' এবং চীনের ক্ষমতাসীন দল 'চীনা কমিউনিস্ট পার্টি (CCP)'-এর মধ্যে।
চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের বিশেষ আমন্ত্রণে গত সোমবার (২২ জুন) রাতে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরের প্রথমাংশে তিনি চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে যোগ দেন। পরবর্তীতে বুধবার রাতে দালিয়ান থেকে বেইজিং পৌঁছালে তাঁকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। বেইজিংয়ে অবস্থানকালেই চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের সাথে তাঁর এই ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হয়।
দিয়াওতাই হোটেলের এই সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির এবং ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুর ইসলাম রনি উপস্থিত ছিলেন। চার দিনের এই সফল সফর শেষ করে আজ শুক্রবার বিকেলেই ঢাকার উদ্দেশ্যে বেইজিং ত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
Comments