'হায় হোসেন' মাতমে পুরান ঢাকায় ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল
আজ ১০ মহররম, পবিত্র আশুরা। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে এটি গভীর শোক ও ত্যাগের দিন। ৬১ হিজরির এই দিনে ফোরাত নদীর তীরের কারবালার ময়দানে অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে শহীদ হন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র ইমাম হোসেন (রা.)। এই মর্মন্তুদ স্মৃতি স্মরণে শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে রাজধানীর পুরান ঢাকায় ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল বের করেছেন শিয়া সম্প্রদায়ের মুসলমানরা।
সকালে পুরান ঢাকার হোসেনি দালান ইমামবাড়া থেকে 'হায় হোসেন, হায় হোসেন' মাতমে আশুরার প্রধান তাজিয়া মিছিলটি শুরু হয়। সকাল থেকেই পুরান ঢাকা ও এর আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সব বয়সী নারী, পুরুষ ও শিশুরা হোসেনি দালানে জড়ো হতে থাকেন। কারবালার বেদনাবিধুর স্মৃতি স্মরণে মিছিলে অংশ নেওয়া অধিকাংশ মানুষের পরনেই ছিল শোকের প্রতীক কালো পোশাক। কারও চোখে ছিল অশ্রু, আবার কেউ বুক চাপড়ে প্রকাশ করছিলেন শোক। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল নানা রঙের নিশান, আলম, দুলদুল ঘোড়ার প্রতীক ও পাঞ্জাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতীক।
হোসেনি দালান ইমামবাড়া থেকে শুরু হওয়া এই মিছিলটি বকশীবাজার, উর্দু রোড, লালবাগ, আজিমপুর, নীলক্ষেত, নিউমার্কেট, সায়েন্স ল্যাব ও জিগাতলা হয়ে ধানমন্ডি লেকে পৌঁছাবে। সেখানে প্রতীকী 'কারবালা' প্রাঙ্গণে তাজিয়া বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এই পর্বের সমাপ্তি ঘটবে।
মিছিল শেষে অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, জুমার নামাজ শেষে হোসেনি দালানে ঐতিহ্যবাহী শিরনি বিতরণ করা হবে। সন্ধ্যায় আয়োজিত হবে বিশেষ মজলিশ। কারবালার সেই অন্ধকার ও ভয়াবহ রাতের স্মরণে ইমামবাড়ার সব আলো নিভিয়ে এই শোক পালন করা হবে।
হোসেনি দালান ছাড়াও রাজধানীর বড় কাটারা ইমামবাড়া, মোহাম্মদপুরের শিয়া মসজিদ, পুরানা পল্টন ও মগবাজার ইমামবাড়াসহ প্রায় ৩০টি ছোট-বড় ইমামবাড়াতে পৃথক তাজিয়া মিছিল, মজলিশ ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান চলছে।
পবিত্র আশুরার এই তাজিয়া মিছিলকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মিছিলের সামনে ও পেছনে সোয়াট (SWAT)-সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্যকে সতর্ক অবস্থানে থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেখা গেছে।
Comments