দুই বছরের নীরবতা ভেঙে হুইলচেয়ারে ফিরলেন অলকা ইয়াগনিক: নিলেন ‘পদ্মভূষণ’
প্রায় দুই বছরের কঠিন স্বাস্থ্যসংকট ও নীরবতা ভেঙে অবশেষে ভক্তদের মাঝে ফিরেছেন ভারতীয় সংগীতজগতের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী অলকা ইয়াগনিক। ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে দেশটির তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা 'পদ্মভূষণ' গ্রহণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে নিজের বর্তমান অবস্থা ও ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প শেয়ার করেছেন তিনি।
সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে এই সম্মাননা গ্রহণ করার সময় হুইলচেয়ারে বসা অলকাকে দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন বিশ্বজুড়ে থাকা তাঁর কোটি ভক্ত। এর পরপরই ইনস্টাগ্রামে দীর্ঘদিনের নীরবতা ভাঙেন চার দশকের ক্যারিয়ারে ২২ হাজারেরও বেশি গানের এই জাদুকরী কণ্ঠশিল্পী।
২০২৪ সালের পর থেকেই হঠাৎ করে লাইমলাইট থেকে দূরে চলে যান অলকা ইয়াগনিক। জানা যায়, তিনি 'সেন্সোরিনিউরাল হিয়ারিং লস' নামের একটি বিরল শ্রবণজনিত সমস্যায় ভুগছেন। ২০২৪ সালে একটি বিমানযাত্রার পর তিনি হঠাৎ করেই তাঁর শ্রবণশক্তি হারানোর মতো ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। চিকিৎসকদের মতে, কোনো ভাইরাল সংক্রমণ কিংবা দীর্ঘ চার দশক ধরে টানা উচ্চ শব্দের (মিউজিক ও স্টুডিও রেকর্ডিং) মধ্যে কাজ করার কারণে এই জটিলতা তৈরি হতে পারে।
পদ্মভূষণ সম্মাননা পাওয়ার পর ইনস্টাগ্রামে অলকা ইয়াগনিক জানান, বিগত দুটি বছর তাঁর জীবনের অন্যতম কঠিন সময় ছিল। তবে ভক্তদের নিরবচ্ছিন্ন প্রার্থনা, ভালোবাসা আর সমর্থনই তাঁকে টিকে থাকার শক্তি দিয়েছে।
তিনি লেখেন, 'এই মুহূর্তটি আমার কাছে বিশেষভাবে অর্থপূর্ণ। কারণ এটি কেবল আমার কাজের স্বীকৃতি নয়; বরং ভালোবাসা, আশা এবং ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি থেকে যে নতুন শক্তির জন্ম হয়—এটি তারই এক অনন্য স্মারক। আমি ধীরে ধীরে নিজের চেনা ছন্দে ফিরে আসছি। আজ (রাষ্ট্রপতি ভবনে) এখানে উপস্থিত হতে চেয়েছিলাম শুধু নিজের জন্য নয়, বরং আপনাদের প্রত্যেকের জন্য যারা আমার এই দীর্ঘ পথচলার অংশ হয়েছেন।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি তাঁকে নতুন করে বেঁচে থাকার আশা ও সাহস জুগিয়েছে। সম্মাননার পুরো কৃতিত্ব তিনি তাঁর শ্রোতাদের উৎসর্গ করেছেন।
পদ্মভূষণ প্রাপ্তি এবং অলকার ঘুরে দাঁড়ানোর এই পোস্টটি মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। সোনু নিগম, শ্রেয়া ঘোষালসহ ভারতীয় সংগীত ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের শীর্ষ তারকাদের পাশাপাশি সাধারণ ভক্তরা তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং তাঁর দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করছেন।
'এক দো তিন', 'তালে সে তাল মিলা' কিংবা 'কুছ কুছ হোতা হ্যায়'-এর মতো ২৫টি ভাষায় হাজার হাজার কালজয়ী গানের এই শিল্পী আবারও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়াবেন—এমনটাই এখন প্রার্থনা সংগীতপ্রেমীদের।
Comments