চাঁদপুরে সাব-স্টেশনে ঢুকে বিদ্যুৎকর্মীকে তুলে নিয়ে মারধর
লোডশেডিং ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের জের ধরে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের সাব-স্টেশনে ঢুকে এক লাইনম্যানকে তুলে নিয়ে নির্মমভাবে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। হামলাকারীরা শুধু মারধরই করেনি, গুরুতর আহত ওই কর্মীর কাছ থেকে নগদ ২৩ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে এবং তার মোবাইল ফোন ভাঙচুর করেছে বলে জানা গেছে।
এই নজিরবিহীন হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ বাদী হয়ে ফরিদগঞ্জ থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে ফরিদগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে ফরিদগঞ্জ উপকেন্দ্র-১ এর আওতাধীন উত্তর ধানুয়া গ্রামে বিদ্যুৎ লাইন মেরামত করতে যান লাইনম্যান গ্রেড-১ মো. ইব্রাহীম ও গ্রেড-২ মো. আব্দুল কাদের। ওই সময় স্থানীয় ১০-১২ জনের একটি উত্তেজিত দল আচমকা সাব-স্টেশনের ভেতরে ঢুকে পড়ে। তারা কিছু বুঝে ওঠার আগেই লাইনম্যানদের ওপর চড়াও হয় এবং একজনকে তুলে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করে।
মামলায় ধানুয়া গ্রামের মো. জাফর মিজি, মো. ফারুক পাটোয়ারী ও মো. জসিমসহ বেশ কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে ধানুয়া গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি, বেশ কিছুদিন ধরে এলাকায় তীব্র লোডশেডিং চলছে। এর ওপর আবার অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল আসছে। এসব সমস্যার কথা একাধিকবার সাব-স্টেশনে জানানো হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। দিনের পর দিন ভোগান্তি চরমে পৌঁছানোয় উত্তেজিত জনতা ক্ষোভের বশে এই কাণ্ড করেছে।
এই ঘটনাকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং দেশের প্রচলিত আইনের গুরুতর লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। তারা জানান, উপকেন্দ্রের প্রতিটি যন্ত্রপাতিতে উচ্চমাত্রার বিদ্যুৎ থাকে। উত্তেজিত জনতা যেভাবে সেখানে প্রবেশ করে হস্তক্ষেপ করেছে, তাতে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর হতে পারত। জনসেবায় নিয়োজিত সরকারি কর্মচারীকে শারীরিকভাবে আঘাত করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, সাব-স্টেশনের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে। বিদ্যুৎ আইন ও দেশের প্রচলিত আইনে আসামিদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
ফরিদগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে বিদ্যুৎকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এলাকায় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
Comments