সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্সের মৌখিক পরীক্ষা স্থগিত, ফলাফলে হস্তক্ষেপের অভিযোগ
বিশেষ সংখ্যামান ও রাজনৈতিক চাপের মুখেও ২১০ জনের ফল প্রকাশ করা হয়েছিল; এবার 'অনিবার্য কারণে' পুরো প্রক্রিয়া আটকে দিল এনবিআর।
ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্ট লাইসেন্সের মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশের ঠিক পরদিনই তা স্থগিত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। হঠাৎ নেওয়া এই সিদ্ধান্তের পেছনে গভীর অনিয়ম ও অনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, লিখিত পরীক্ষার ফলাফলে এনবিআরের শীর্ষ মহলের একটি 'অনৈতিক' তদবির ও অবৈধ তালিকা ঢোকানোর চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে পুরো পরীক্ষা প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার এনবিআরের কাস্টমস মামলা ও বিরোধ নিষ্পত্তি শাখা থেকে 'অনিবার্য কারণ' দেখিয়ে এই স্থগিতাদেশ জারি করা হয়। তবে 'অনিবার্য কারণটি' আসলে কী, তার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি চিঠিতে। কাস্টমসের অনুমোদিত প্রতিনিধি হিসেবে পণ্য খালাস ও আমদানির মতো সংবেদনশীল কাজের লাইসেন্স দেওয়া নিয়ে এনবিআরের এমন ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা-২০২৬ অনুযায়ী, এই লাইসেন্স দেওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ থেকে শুরু করে পরীক্ষা গ্রহণ ও চূড়ান্ত লাইসেন্স দেওয়ার একক দায়িত্ব কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমির (সিইভিটিএ)। বিধিমালা অনুযায়ী পরীক্ষা স্থগিত করার কোনো আইনি এখতিয়ার এনবিআরের নেই।
জানা যায়, ১৬ মে অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় ২ হাজার ৫২১ জন অংশ নেন। ৮০ নম্বরের পরীক্ষায় পাস নম্বর ছিল ৪০। কঠোর মূল্যায়নের পর মাত্র ২১০ জন পরীক্ষার্থী পাস করতে সক্ষম হন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরীক্ষা কমিটির এক প্রভাবশালী সদস্য বলেন, পরীক্ষা শেষ হওয়ার রাতেই ২১০ জনের তালিকা চূড়ান্ত করে কমিটির ছয় সদস্য স্বাক্ষর করেন। নিয়ম অনুযায়ী পরদিনই ফল প্রকাশের কথা। কিন্তু বাঁধ সাধেন এনবিআরের এক শীর্ষ কর্মকর্তা। রাজনৈতিক চাপের অজুহাত তুলে তিনি ১১০ জনের একটি সম্পূর্ণ আলাদা তালিকা সিইভিটিএকে দেন এবং তাদের পাস করিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।
কমিটির সদস্যরা যাচাই করে দেখেন, এনবিআরের দেওয়া ওই তালিকায় এমন পরীক্ষার্থীরাও আছেন যারা লিখিত পরীক্ষায় ১০ নম্বরও পাননি। এই অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় প্রায় ১৫ দিন ফলাফল আটকে রাখা হয়। পরবর্তীতে সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে খবর চাউর হলে ১ জুন বাধ্য হয়ে প্রকৃত উত্তীর্ণ ২১০ জনের ফল প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ।
বিধিমালা অনুযায়ী, আগামী ২৪ জুনের মধ্যে মৌখিক পরীক্ষা শেষ করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সূত্র বলছে, মৌখিক পরীক্ষার শিডিউল যেন ঘোষণা না করা হয়, সেজন্যও নানামুখী চাপ ছিল। কিন্তু আইন মেনে গত ১৭ জুন ভাইভার সময়সূচি প্রকাশ করে সিইভিটিএ। আর এর ঠিক ২৪ ঘণ্টার মাথায় এনবিআর থেকে আসে স্থগিতের নির্দেশ। আইন অনুযায়ী যেখানে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ ও লাইসেন্স দেওয়ার সর্বময় ক্ষমতা সিইভিটিএর, সেখানে এনবিআর কীভাবে হস্তক্ষেপ করে এমন প্রশ্ন এখন সর্বত্র।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিইভিটিএ মহাপরিচালক ম সফিউজ্জামান বলেন, বিধি অনুযায়ী দুই মাসের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার বাধ্যবাধকতা আছে। আমরা সেভাবেই এগোচ্ছিলাম। কেন পরীক্ষা স্থগিত করা হলো, তার কোনো কারণ আমাদের জানানো হয়নি।" তবে অনৈতিক তদবিরের কারণেই এই স্থগিতাদেশ কি না। এমন প্রশ্নে তিনি সুকৌশলে মন্তব্য এড়িয়ে যান।
এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তার কোনো সাড়া মেলেনি।
Comments