পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আইওএম-এর নবনিযুক্ত চিফ অব মিশনের সাক্ষাৎ
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) নবনিযুক্ত চিফ অব মিশন ড. লরা টমবন্ড । সাক্ষাৎকারকালে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের পরিচয়পত্র পেশ করেন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন, ২০২৬) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
নতুন চিফ অব মিশনকে বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, "আমি আন্তরিকভাবে ড. লরা টমবন্ডকে বাংলাদেশে আইওএম-এর চিফ অব মিশন হিসেবে স্বাগত জানাচ্ছি। বাংলাদেশ সরকার ও আইওএম-এর মধ্যকার দীর্ঘদিনের দৃঢ় অংশীদারি ও সহযোগিতাকে আগামী দিনগুলোতে আরও সামনে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা করি।"
সংশ্লিষ্টরা জানান, ড. টমবন্ড এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাংলাদেশে তাঁর কার্যকাল শুরু করছেন, যখন দেশ বহুমাত্রিক অভিবাসন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে নিরাপদ ও নিয়মিত শ্রম অভিবাসনের বৈশ্বিক সুযোগ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে মিয়ানমারে সহিংসতার কারণে বাস্তুচ্যুত হয়ে পালিয়ে আসা ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘমেয়াদি ও বড় বাস্তুচ্যুতি সংকট মোকাবেলা করছে।
বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় পরিস্থিতি নিয়ে ড. লরা টমবন্ড বলেন, "বাংলাদেশের সামগ্রিক অভিবাসন পরিস্থিতি অত্যন্ত গতিশীল। এখানে যেমন বড় অর্থনৈতিক সুযোগ রয়েছে, তেমনি কিছু চ্যালেঞ্জও বিদ্যমান। আমি সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী, যাতে অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষিত থাকে এবং সুশাসিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে অভিবাসন খাত দেশের টেকসই উন্নয়নে অর্থবহ অবদান রাখতে পারে।"
বাংলাদেশে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা ও লবণাক্ততার অনুপ্রবেশসহ জলবায়ুজনিত বিভিন্ন ঝুঁকি এবং এর ফলে সৃষ্ট অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন নতুন চিফ অব মিশন। তিনি নিয়মিত অভিবাসনের পথ সম্প্রসারণ এবং জলবায়ুজনিত কারণে ঘরবাড়ি হারানো মানুষের পুনর্বাসনে সমন্বিত সরকারি ও আঞ্চলিক উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে আইওএম-এর কারিগরি সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।
আইওএম-এর চিফ অব মিশন অভিবাসনের পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা প্রদানে সংস্থাটির ধারাবাহিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। আইওএম-এর ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে রয়েছে, নিরাপদ ও নিয়মিত শ্রম অভিবাসন জোরদার করা, স্বাস্থ্য ও প্রাক-বহির্গমন (Pre-departure) সেবা উন্নত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসীদের সুরক্ষা ও পুনঃএকত্রীকরণে সহায়তা প্রদান। দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিকে আরও শক্তিশালী করা। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলাকে অন্যতম শীর্ষ অগ্রাধিকার হিসেবে বজায় রাখা এবং কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলোতে জীবনরক্ষাকারী মানবিক সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীকেও সহায়তা করা।
উল্লেখ্য, কানাডার নাগরিক ড. লরা টমবন্ড আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও অভিবাসন খাতে অত্যন্ত অভিজ্ঞ। বাংলাদেশে দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি সাড়ে ছয় বছর মোজাম্বিকে আইওএম-এর চিফ অব মিশন হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।
Comments