মালয়েশিয়ায় দক্ষ জনশক্তি পাঠালে দ্বিগুণ হতে পারে রেমিট্যান্স: আনোয়ার শহীদ
বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিএমসিসিআই) সভাপতি মো. আনোয়ার শহীদ বলেছেন, মালয়েশিয়ায় শুধু সাধারণ শ্রমিক নয়, দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তি পাঠানোর দিকে গুরুত্ব দিলে বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব। তিনি মনে করেন, প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর, উৎপাদনশিল্প ও কারিগরি খাতে দক্ষ কর্মীদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, যা বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
১৮ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা জার্নালের সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর, শ্রমবাজার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন।
আনোয়ার শহীদ বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের ও বহুমাত্রিক। বর্তমানে প্রায় ৯ লাখ বাংলাদেশি মালয়েশিয়ায় বসবাস ও কাজ করছেন, যা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে। তবে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ থাকায় গুরুত্বপূর্ণ একটি অর্থনৈতিক খাত স্থবির হয়ে আছে। এরপরও বাণিজ্য, শিক্ষা ও বিনিয়োগ ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সফরটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও সময়ের দিক থেকে বেশ সংক্ষিপ্ত। ফলে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত বা বেসরকারি খাতের ব্যাপক সম্পৃক্ততার সুযোগ সীমিত। তবে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের আলোচনা এবং কয়েকটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।
শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে তিনি আশাবাদী হলেও তাৎক্ষণিক কোনো বড় অগ্রগতির প্রত্যাশা না করার পরামর্শ দেন। তার মতে, ভবিষ্যতে শ্রমবাজার খুললে দক্ষ কর্মী পাঠানোর কৌশল গ্রহণ করতে হবে, যাতে বাংলাদেশ অধিক রেমিট্যান্স অর্জন করতে পারে।
দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারই মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশের আমদানি। অন্যদিকে বাংলাদেশের রপ্তানি ৩৫০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তিনি তৈরি পোশাক, কৃষিপণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, সিরামিক, ওষুধ ও এসএমই পণ্যে রপ্তানি বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) প্রসঙ্গে বিএমসিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের পর নতুন বাণিজ্যিক বাস্তবতায় এফটিএ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এর মাধ্যমে শুল্ক সুবিধা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
হালাল শিল্প নিয়ে তিনি বলেন, মালয়েশিয়া এ খাতে বিশ্বনেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে। বাংলাদেশ যদি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হালাল সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে, তাহলে খাদ্য, কৃষিপণ্য, মাংস, ওষুধ ও অন্যান্য হালাল পণ্যের রপ্তানিতে বড় সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
সামগ্রিকভাবে সফর সম্পর্কে আনোয়ার শহীদ বলেন, তাৎক্ষণিক বড় কোনো পরিবর্তনের প্রত্যাশা না থাকলেও দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের যোগাযোগ বৃদ্ধি, এফটিএ আলোচনা এগিয়ে যাওয়া, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যে নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং ভবিষ্যতে শ্রমবাজার সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের পথ সুগম হতে পারে।
Comments