মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা ও সৌদির কড়াকড়ি: কমছে জনশক্তি রপ্তানি
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সৌদি আরবের কড়া বিধিনিষেধের কারণে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি খাতে বড় ধরনের মন্দা দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে প্রতি মাসে বিদেশে কর্মসংস্থানের ছাড়পত্র পাওয়া কর্মীর সংখ্যা ৪৪ হাজার থেকে ৬৫ হাজারের ঘরে ওঠানামা করছে। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) সাম্প্রতিক তথ্যে এই উদ্বেগের চিত্র উঠে এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মন্দা বজায় থাকলে আগামী অর্থবছরে ১৪ লাখ কর্মী বিদেশে পাঠানোর সরকারি লক্ষ্যমাত্রা এবং আগামী পাঁচ বছরে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির নির্বাচনী অঙ্গীকার বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
বিএমইটির সূত্রমতে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৬৫ হাজার ৬৩৪ জন কর্মী বিদেশে কর্মসংস্থানের ছাড়পত্র পেয়েছিলেন। তবে মার্চে এই সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে দাঁড়ায় ৪৪,৬৫৮ জনে। এরপর এপ্রিলে কিছুটা বেড়ে ৪৮,৮৫৯ জন এবং মে মাসে ৬০,১১৯ জন কর্মী ছাড়পত্র পান। মে মাসের এই পরিসংখ্যান এপ্রিলের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি হলেও, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় তা প্রায় ৪৩ শতাংশ কম। অথচ কোভিড মহামারির পর প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার কর্মী বিদেশে যেতেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মন্দার মধ্যেও মে মাসে বাংলাদেশি কর্মীদের শীর্ষ গন্তব্য ছিল সৌদি আরব। এই মাসে ৩০ হাজার ৫০৯ জন কর্মী সৌদি আরবে গেছেন। এর বাইরে কাতারে গেছেন ৮ হাজার ৯০১ জন এবং সিঙ্গাপুরে পাড়ি জমিয়েছেন ৫ হাজার ৬৮৩ জন।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশে কর্মী নিয়োগের এই দীর্ঘমেয়াদি দুর্বলতা অব্যাহত থাকলে দেশের শ্রম রপ্তানির গতি ধরে রাখা কঠিন হবে। মালয়েশিয়া, ওমান, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজারগুলো কম দক্ষ কর্মীদের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করতে জরুরি কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) সাবেক যুগ্ম মহাসচিব টিপু সুলতান পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে বলেন, "সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নতুন সৌদি ভিসার সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে গেছে। জুনে আমরা মাত্র দুই-তিনটি নতুন সৌদি ভিসা পেয়েছি। মে মাসে এই সংখ্যা ছিল ছয়-সাতটির মতো, আর তার আগের মাসে ছিল প্রায় ১০ থেকে ১২টি।"
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই গত ৮ জুন প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর সংসদে জানান, চলতি অর্থবছরে ৯ লাখ ৩৩ হাজার ৮১৫ জন কর্মী বিদেশে গেলেও আগামী অর্থবছরে প্রায় ১৪ লাখ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সরকার।
উল্লেখ্য, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ৪৫ লাখ ৭০ হাজারের বেশি কর্মী বিদেশে গেছেন, যেখানে প্রতি মাসে গড় প্রবাসী কর্মীর সংখ্যা ছিল ৯৫ হাজারেরও বেশি। সেই তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি বেশ চ্যালেঞ্জিং। তবে দক্ষ ও পেশাজীবী কর্মী পাঠানো বাড়িয়ে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
Comments