কম্বোডিয়ার সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে ফিরলেন আরও ৭৮ বাংলাদেশি: ৪ দিনে উদ্ধার ২২১
কম্বোডিয়ার বিভিন্ন সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড (প্রতারণা কেন্দ্র) থেকে উদ্ধার হওয়া আরও ৭৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরেছেন। মঙ্গলবার (১৬ জুন, ২০২৬) দিবাগত রাতে থাই এয়ারওয়েজের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এ নিয়ে গত মাত্র চার দিনে কম্বোডিয়ার সাইবার স্ক্যাম চক্রের কবল থেকে মুক্ত হয়ে মোট ২২১ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন।
ফেরত আসা এই ভুক্তভোগীদের বিমানবন্দরে জরুরি মানবিক সহায়তা এবং নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য আর্থিক অনুদান দিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক-এর মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম। এই কার্যক্রমে সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি দলও সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, "সাইবার স্ক্যাম বর্তমানে মানবপাচারের অন্যতম একটি ভয়াবহ রূপ। বিদেশে উচ্চ বেতনের আইটি বা অন্য চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশিদের কম্বোডিয়াসহ বিভিন্ন দেশে নিয়ে জোরপূর্বক অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হচ্ছে।"
ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী স্ক্যাম সেন্টারগুলোর ভয়াবহ চিত্র: বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত দেশের নাগরিকদের লক্ষ্য করে পরিচালিত বিভিন্ন সাইবার ও আর্থিক প্রতারণায় অংশ নিতে তাদের বাধ্য করা হতো। নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হলে বা কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে ভুক্তভোগীদের বিশেষ 'টর্চার সেলে' নিয়ে অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন ও বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হতো।
কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাম্প্রতিক বিশেষ অভিযানের মুখে পড়ে স্ক্যাম চক্রের বিদেশি পরিচালকেরা পালিয়ে গেলে এই বাংলাদেশিরা মুক্ত হন।
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে চাকরির উদ্দেশ্যে ১৫ হাজার ৯২১ জন বাংলাদেশি কম্বোডিয়ায় গেছেন। তবে বাস্তবে সেখানে হাজার হাজার বাংলাদেশি প্রত্যাশিত চাকরি না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
ফেরত আসা এক ভুক্তভোগী তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, পাঁচ লাখ টাকারও বেশি খরচ করে সরকারি বৈধ ছাড়পত্র নিয়ে কম্বোডিয়ায় গেলেও সেখানে কোনো প্রতিশ্রুত চাকরি পাননি। বিমানবন্দরে নামার পর মাত্র এক মাসের ভিজিট ভিসায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও পরবর্তীতে আর কাজের ভিসার ব্যবস্থা করা হয়নি। একপর্যায়ে স্থানীয় দালাল ও এজেন্সির প্রতিনিধিরা তাকে একটি সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে চড়া দামে বিক্রি করে দেয়।
৪ দিনে ২২১ জনের প্রত্যাবর্তন: তদন্তের দাবি
ব্র্যাকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কম্বোডিয়া থেকে গত ১২ জুন ৩৭ জন, ১৩ জুন ৫৪ জন, ১৫ জুন ৫২ জন এবং সর্বশেষ ১৬ জুন রাতে আরও ৭৮ জন দেশে ফিরেছেন। সব মিলিয়ে চার দিনে দেশে ফেরা বাংলাদেশির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২১ জনে।
ইতিমধ্যে কয়েকজন ভুক্তভোগী দেশে ফিরে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। আন্তর্জাতিক এই চক্রের মূল হোতা এবং দেশের ভেতরের দালালদের চিহ্নিত করতে সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক ও নিখুঁত তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য, এর আগে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি মিয়ানমারের একটি সাইবার স্ক্যাম কেন্দ্র থেকে ৮ জন এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ১৮ জন বাংলাদেশি একই পরিস্থিতির শিকার হয়ে দেশে ফিরে এসেছিলেন।
Comments