সায়েদাবাদ, গুলিস্তান ও মহাখালী টার্মিনাল সরানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ঢাকার যানজট নিরসন ও গণপরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে যাত্রাবাড়ীর সায়েদাবাদ, গুলিস্তান ও মহাখালী বাস টার্মিনাল রাজধানীর কেন্দ্রস্থল থেকে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৫ জুন, ২০২৬) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত 'যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন' বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের এক সভায় তিনি এই নির্দেশনা দেন।
সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই প্রশাসক এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন।
টার্মিনাল কেন্দ্রিক যানজট দূর করতে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বিকল্প খোঁজা হচ্ছে বলে সভায় জানানো হয়।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান জানান, মহাখালীতে রাস্তার ওপর বাসের বিশৃঙ্খলা রুখতে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পূর্বাচলে বাস ডিপো করা হবে। এর জন্য সিটি করপোরেশন সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম জানান, সায়েদাবাদ টার্মিনালকে দ্রুত শৃঙ্খলার মধ্যে আনার পাশাপাশি কাঁচপুরে আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে গুলিস্তান থেকেও টার্মিনাল সরানোর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. মো. হাদিউজ্জামান জানান, স্থায়ী টার্মিনাল নির্মাণের আগ পর্যন্ত বিকল্প হিসেবে মহাখালীর বাসগুলোর ডিপোর জন্য সাময়িকভাবে পূর্বাচলে জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাসগুলো কেবল যাত্রী তোলার সময় নির্ধারিত টার্মিনালে আসবে। সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়িয়া টার্মিনালের জন্যও এমন অস্থায়ী বিকল্প জায়গা খোঁজা হয়েছে।
টার্মিনাল সরানোর পাশাপাশি ঢাকার সড়ক সচল করতে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। গুলিস্তানসহ রাজধানীর অন্যান্য এলাকার হকারদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যে, তাদের ঢালাওভাবে উচ্ছেদ করা হবে না, আবার বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর সুযোগও দেওয়া হবে না। হকারদের বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরি করে ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের উপযোগী করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
বিগত ১২ বছর ধরে জনগণের ভোগান্তি ও বিপুল বিনিয়োগের পর গাজীপুর-ঢাকা 'বাস র্যাপিড ট্রানজিট' (বিআরটি) প্রকল্পটিকে এই মুহূর্তে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলে তা একটি বাজে উদাহরণ তৈরি করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দেন। তাই এই প্রকল্পকে কীভাবে একটি 'ইমপ্রুভড পাবলিক ট্রান্সপোর্ট করিডোর' হিসেবে ব্যবহার করে জনগণের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে তিনজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী ৭ দিনের মধ্যে এই বিষয়ে একটি বিকল্প প্রস্তাবনা পেশ করা হবে।
দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং টার্মিনালগুলো শহরের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়ার এই মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর যানজট পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করছেন নগরবাসী।
Comments