সীমিত সম্পদে দেশের মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করতেই এবারের বাজেট: অর্থমন্ত্রী
সীমিত সম্পদের মধ্যেও দেশের সব মানুষের জন্য স্বস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই সরকার এবারের বাজেট প্রণয়ন করেছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আজ বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় সংসদে প্রবেশের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, 'নির্বাচিত সরকারের বাজেট নিয়ে জাতির প্রত্যাশা অনেক বেশি থাকে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল যাতে সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, সে বিষয়টিকে এবার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।' একই সঙ্গে ভঙ্গুর অবস্থা থেকে দেশের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা সরকার করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আজ বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে নতুন সরকারের প্রথম এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য এই বিশাল বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী। বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্য সামনে রেখেই এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলা, ভর্তুকি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং সুদ পরিশোধের চাপের কারণে আগামী অর্থবছরে সরকারি ব্যয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেটের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি করে আগামী অর্থবছরের বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ঘাটতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা (যা চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৩% বেশি)। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং এনবিআর-বহির্ভূত উৎস থেকে ৯১ হাজার কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে। (উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে মাত্র ৩ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা)।
আগামী অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে।
সরকারের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা। সেই লক্ষ্য অর্জনের অংশ হিসেবেই এই বৃহৎ বাজেট ঘোষণা করা হচ্ছে।
বাজেটে আগামী অর্থবছরের জন্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সাড়ে ৬ শতাংশ (৬.৫%)। অথচ গত তিন বছর ধরে দেশের প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশের আশপাশে অবস্থান করছে এবং বিশ্বব্যাংক আগামী অর্থবছরের জন্য ৪.৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। অন্যদিকে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতির মধ্যে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশে (৭.৫%) নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন অর্থমন্ত্রী।
বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় আয়-ব্যয়ের এই বিশাল ও উচ্চাভিলাষী কাঠামো অনেকের কাছে 'পরাবাস্তব' মনে হলেও, সরকার একে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের বড় হাতিয়ার হিসেবে দেখছে।
Comments