মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর ও বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলা
ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে একটি আঞ্চলিক দেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর, একটি বিমানঘাঁটি এবং সামরিক হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
বুধবার (৩ জুন, ২০২৬) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো এই চাঞ্চল্যকর সামরিক অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইরানের আইআরজিসির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন উসকানি ও আগ্রাসনের জবাবেই তারা এই পাল্টা হামলা পরিচালনা করেছে। মূলত দুটি সুনির্দিষ্ট ঘটনার প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
ইরানের কেশম দ্বীপের দক্ষিণে অবস্থিত একটি যোগাযোগ টাওয়ারে মার্কিন সামরিক বাহিনী আঘাত হেনেছিল, যার সরাসরি জবাব দিতেই এই মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের একটি তেলবাহী ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের ছোঁড়া প্রজেক্টাইল আঘাত হানে। এতে ট্যাংকারটির ইঞ্জিন কক্ষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর প্রতিশোধ নিতে আইআরজিসি নৌবাহিনী মার্কিন 'পানায়ো' নামে চিহ্নিত একটি জাহাজেও নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। আইআরজিসি এক কড়া হুঁশিয়ারি বার্তায় জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার এবং ইরানের সার্বভৌমত্বে আঘাত হানার যেকোনো চেষ্টার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ভবিষ্যতে আরও চড়া মূল্য দিতে হবে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি সরবরাহ রুটে মার্কিন উপস্থিতি ও ইরানের এই সরাসরি সামরিক পাল্টাপাল্টি আঘাতের ফলে ওই অঞ্চলে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে এই হামলার ক্ষয়ক্ষতি বা মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
Comments