চাঁদপুরে নানার বাড়িতে বেড়াতে এসে যুবক খুন
চাঁদপুরের হাইমচরে এজমালি পুকুরের ঘাটলা দেওয়াকে কেন্দ্র করে নৃশংস হত্যাকাণ্ড হয়েছে। নানার বাড়িতে বেড়াতে এসে ঝগড়া থামাতে গিয়ে প্রতিপক্ষের ধারালো দায়ের কোপে প্রাণ হারিয়েছেন ওমর ফারুক (২২) নামে এক যুবক।
মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুর পৌনে ১টার দিকে উপজেলার ২নম্বর আলগী দুর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের ছোট লক্ষীপুর গ্রামের মৃধা বাড়িতে এই ঘটনা হয়।
নিহত ওমর ফারুক উপজেলার উত্তর চরভাঙ্গা গ্রামের খালেক ঢালীর একমাত্র ছেলে। একমাত্র ছেলে সন্তানকে হারিয়ে মা-বাবা দুজনেই বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন। বর্তমানে তারা হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ওমর ফারুক ছোট লক্ষীপুর গ্রামে তার নানা হাসমত উল্যাহ মৃধার (৭০) বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে হাসমত উল্যাহর পরিবারের সাথে একই বাড়ির প্রতিপক্ষ কুদ্দুস মৃধা, বিল্লাল মৃধা, হাসান মৃধা ও হাবিব মৃধাসহ কয়েকজনের এজমালি পুকুরের ঘাটলা নির্মাণ নিয়ে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন বৃদ্ধ হাসমত উল্যাহকে মারধর করতে উদ্যত হলে নাতি ওমর ফারুক ঝগড়া থামাতে এবং বিরোধ মীমাংসা করতে এগিয়ে যান। ঠিক তখনই বিবাদীপক্ষের লোকজন অতর্কিতে ওমর ফারুক ও তার নানার পরিবারের লোকজনের চোখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয়। মরিচের গুঁড়ার তীব্রতায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়লে, প্রতিপক্ষ ধারালো দা দিয়ে ওমর ফারুকের গলায় কোপ মারে। এতে তিনি রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওমর ফারুককে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।
"তার শ্বাসনালী কেটে যাওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। চিকিৎসা শুরু করতে করতেই মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। প্রতিবেদক এর কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডা. কাজী মোস্তফা আল মাহমুদ, মেডিকেল অফিসার, হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
ঘটনার পর হাইমচর থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে লাশ থানায় নিয়ে আসে। পুলিশ জানায়, লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পুরো এলাকায় চরম থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
হাইমচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নাজমুল হাসান জানান,ঘটনার পর পরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার সাথে জড়িত আসামিদের আটকে পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নেমেছে। এ বিষয়ে মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
Comments