জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে 'ইয়াসিন বাহিনী'র হামলা: বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো দেয়াল
গভীর রাতে অতর্কিতে র্যাব ক্যাম্পে (চৌকি) গুলি চালিয়েছে একদল সন্ত্রাসী। এরপর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ক্যাম্পের দেয়ালসহ বিভিন্ন অবকাঠামো। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পারেন, সেজন্য অন্তত তিনটি স্থানে কেটে দেওয়া হয়েছে রাস্তা।
রোববার দিবাগত রাত দুইটার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। র্যাবের দাবি, সন্ত্রাসী 'ইয়াসিন বাহিনী'র সদস্যরা এই হামলার সঙ্গে জড়িত।
র্যাব জানায়, রাস্তা কেটে দেওয়াসহ নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করেন যৌথ বাহিনীর সদস্যরা। গাড়ি চলাচলের পথ বন্ধ থাকায় গাড়ি দূরে রেখে হেঁটে ঘটনাস্থলে পৌঁছান তারা। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এই সংঘর্ষে সন্ত্রাসীদের দমনে অ-প্রাণঘাতী (নন-লিথাল) অস্ত্র ব্যবহার করে র্যাব। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন অপরাধীদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত জঙ্গল সলিমপুর গত ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও বিজিবির প্রায় ৩,২০০ সদস্যের এক বিশাল যৌথ অভিযানের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে নেয় প্রশাসন। এর আগে একাধিকবার চেষ্টা করেও এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সম্ভব হয়নি; উল্টো হামলার শিকার হতে হয়েছিল পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের। স্থানীয়দের মতে, অভিযানের আগে জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূল এলাকা রোকন এবং আলীনগর এলাকা ইয়াসিনের দখলে ছিল।
যৌথ অভিযানের পর সরকার এই এলাকায় পুলিশ ও র্যাবের জন্য দুটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণা দেয়। এরই অংশ হিসেবে আলীনগরে র্যাবের একটি ক্যাম্প তৈরির কাজ চলছিল, যা গতকাল রাতে সন্ত্রাসীরা গুঁড়িয়ে দেয়।
র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, একে-৪৭, এসএমজিসহ ভারী অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় কয়েকশ' সন্ত্রাসী। চারপাশ ঘিরে শুরু হয় গোলাগুলি। সুপরিকল্পিতভাবে এই হামলায় চালিয়েছে তারা। তবে সবকিছুর পরেও পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে বলে জানান তিনি। তবে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা গেলেও কেন এই ইয়াসিনকে গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই এই এলাকায় অভিযান চালানো কঠিন। তবে দ্রুতই এই বাহিনীর সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
এদিকে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, ঘটনার পর পরই ছুটে যান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এসময় আটকেপড়া বাহিনীর সদস্যদের উদ্ধারের পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চালানো হয় গুলি। তবে সন্ত্রাসীরা আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত থাকায় কিছুটা বেগ পেতে হয় বলে জানান তিনি। এসময় অভিযান চালিয়ে আটক করা হয় ২০-২৫ জনকে। এছাড়া জব্দ করা হয় স্কেভেটর, বুলডোজার, ড্রাম ট্রাক, মোটরসাইকেলসহ কিছু দেশীয় অস্ত্র। তিনি জানান, এ ঘটনার পর সন্ত্রাসীদের আর কোনো ছাড় দেয়া হবে না।
গত ৯ মার্চের অভিযানে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও ইয়াসিন বাহিনীর প্রধান মো. ইয়াসিন, রোকন বাহিনীর প্রধান রোকন উদ্দিনসহ মশিউর রহমান, নুরুল হক ভান্ডারি, গাজী সাদেক ও গোলাম গফুরের মতো শীর্ষ সন্ত্রাসীরা এখনো পলাতক রয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
Comments