জ্বালানি থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: শি-পুতিনের ২০টি চুক্তি স্বাক্ষর
বিশ্ব ভূ-রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করতে জ্বালানি, বাণিজ্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ (এআই) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারে সম্মত হয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বুধবার বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এক ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে দুই বিশ্বনেতা অন্তত ২০টি কৌশলগত চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন।
ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুতিনের এই সফরে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৪০টি চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা ছিল। তবে প্রথম দফায় আজ ২০টি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি চুক্তিগুলো পরবর্তীতে পৃথকভাবে ঘোষণা করা হবে।
হংকং-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট (এসসিএমপি) জানায়, স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলোর মধ্যে প্রধানত রয়েছে:
- বাণিজ্য ও প্রযুক্তি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা।
- জ্বালানি নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন।
- গণমাধ্যম এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ সুরক্ষা।
চুক্তি স্বাক্ষরের পাশাপাশি দুই নেতা একটি 'যৌথ ঘোষণাপত্র' প্রকাশ করবেন, যেখানে একটি বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং চীন ও রাশিয়ার মধ্যকার সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং বলেন, মস্কো ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক বর্তমানে সর্বোচ্চ স্তরের কৌশলগত অংশীদারত্বে পৌঁছেছে। দুই দেশ একে অপরকে সমমর্যাদা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার চোখে দেখে। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, "উভয় দেশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করবে।"
প্রযুক্তি খাতের নানা উদ্ভাবনের জন্য অপরিহার্য উপাদান 'বিরল খনিজ' এর বিশ্ববাজারে চীনের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যাধুনিক চিপ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান 'এনভিডিয়া'-র সিইও জেনসেন হুয়াংসহ প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে চীন সফর করলেও কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তির ঘোষণা আসেনি। ট্রাম্পের সেই সফরের পরপরই রাশিয়ার সাথে চীনের এই এআই ও প্রযুক্তি চুক্তি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
অন্যদিকে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বেইজিংকে আশ্বস্ত করে বলেন, যেকোনো বহিরাগত প্রভাব, নিষেধাজ্ঞা বা নেতিবাচক পরিস্থিতি থেকে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকবে। রাশিয়া ভবিষ্যতে চীনে নিরবচ্ছিন্নভাবে তেল ও গ্যাস সরবরাহ বজায় রাখতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
বক্তব্যের শেষ অংশে শি চিনপিং পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের দিকে ইঙ্গিত করে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার এবং একতরফা বলপ্রয়োগের রাজনীতির সমালোচনা করেন। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, ইতিহাস পরিপন্থী যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরোধিতার ক্ষেত্রে চীন ও রাশিয়াকে বিশ্বমঞ্চে দায়িত্বশীল পরাশক্তির মতো জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে।
Comments