অনলাইন জুয়ার টাকা পাচার হতো বিদেশে, ৬ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৯
রাজধানীর উত্তরা ও তুরাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়া, সাইবার প্রতারণা ও অবৈধ ডিজিটাল লেনদেনের অভিযোগে ছয় চীনা নাগরিকসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। চক্রটি অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে বিদেশে পাচার করছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবি প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম।
গ্রেপ্তার হওয়া চীনা নাগরিকরা হলেন—এম.এ (৩৩), ঝাং জিয়াহাও (২২), লিও জিঞ্জি (৩২), ওয়াং শিবো (২৪), চাং তিয়ানতিয়ান (২৯) ও জেমস ঝু (৪৩)। তাদের সহযোগী হিসেবে গ্রেপ্তার হওয়া তিন বাংলাদেশি হলেন—মো. কাউসার হোসেন (২৪), মো. আব্দুল-কারিম (২৮) ও রোকন উদ্দিন (৪০)।
ডিবি প্রধান জানান, বুধবার সকালে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টর এবং তুরাগের রূপায়ন হাউজিং এস্টেটে অভিযান চালায়। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে: ৩টি ৬৪-পোর্ট বিশিষ্ট জিএসএম/জিপিআরএস সিম মডিউল (ভিওআইপি গেটওয়ে)। ১টি ২৫৬-পোর্ট বিশিষ্ট সিম মডিউল মেশিন। বিভিন্ন অপারেটরের প্রায় ২৮০টি সিম কার্ড। একাধিক ল্যাপটপ, ২০টি স্মার্টফোন ও একটি মাইক্রোবাস। নগদ ৬ লাখ ৫ হাজার টাকা, পাসপোর্ট ও এনআইডি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এই চক্রটি ফেসবুক, ইউটিউব ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করত। শুরুতে কিছু লাভের টোপ দিলেও পরে গ্রাহকদের সব টাকা হাতিয়ে নিত তারা।
ডিবি প্রধান বলেন, "আমরা অনুসন্ধানে দেখেছি, জুয়ার টাকা নগদ বা বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হতো এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে তা তাৎক্ষণিকভাবে দেশের বাইরে পাচার করা হতো। প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত এই চীনা নাগরিকরা বাংলাদেশকে সহজ টার্গেট হিসেবে বেছে নিয়েছে।"
অবৈধ সিম ব্যবহারের বিষয়ে শফিকুল ইসলাম জানান, কম শিক্ষিত মানুষের ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে নিবন্ধন করা সিমগুলো এসব চক্রের কাছে বিক্রি করা হয়। যারা এই অবৈধ সিম বিক্রির সঙ্গে জড়িত, তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
যুবসমাজকে এই মরণনেশা ও প্রতারণার ফাঁদ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে ডিবি প্রধান বলেন, অপরাধীদের দমনে প্রযুক্তিগত নজরদারি ও আইনগত ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।
Comments