বিশ্ব পরিস্থিতি সামলাতে একসাথে রাশিয়া-চীন
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাশিয়া ও চীনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থিতিশীলতার শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা। তার মতে, দুই দেশ তাদের সক্ষমতা ও সম্পদ একত্রিত করে বৈশ্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে কাজ করছে।
রাশিয়ার প্রধান এবং সবচেয়ে পুরনো রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন করেছে। এক সাক্ষাৎকারে মারিয়া জাখারোভা বলেন, 'রাশিয়া ও চীন শুধু দুটি রাষ্ট্র নয় বরং দুটি প্রাচীন সভ্যতা এবং পারমাণবিক শক্তিধর দেশ।
পাশাপাশি তারা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য এবং ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যা ও সম্পদের দিক থেকেও প্রভাবশালী।' এই প্রেক্ষাপটে তারা সম্মিলিতভাবে বিশ্বকে সংকটমুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করছে বলে তিনি দাবি করেন।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরো বলেন, 'মস্কো ও বেইজিং কোনো অঞ্চল ভাগাভাগি বা প্রভাব বিস্তারের রাজনীতিতে আগ্রহী নয় বরং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।' 'কোন সভ্যতা কোন অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করবে—এ নিয়ে বিতর্ক নয় বরং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই গুরুত্বপূর্ণ'—যোগ করেন তিনি।
এদিকে ১৪ এপ্রিল রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ চীন সফর করেন। সফরকালে তিনি তার চীনা সমকক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর চালানো হামলায় 'শোচনীয় পরাজয়' বরণ করেছে বলে মন্তব্য করেছিলেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা। এই হামলা ছিল একপক্ষীয় ও বিনা উসকানিতে পরিচালিত আগ্রাসন বলে দাবি করেছিলেন তিনি।
স্পুতনিক রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাখারোভা বলেছিলেন, এই হামলার বিরোধিতা শুরু থেকে করেছে রাশিয়া। এ ছাড়া পরিস্থিতিও দ্রুত শান্ত করার আহ্বান জানিয়েছে। এ বিষয়ে তিনি আরো বলেন, 'আমরা প্রথম বিবৃতিতেই বলেছিলাম, এই আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধ করা প্রয়োজন। এই পরিস্থিতির কোনো সামরিক সমাধান নেই।
জাখারোভা জানান, সংঘাত বাড়ানোর পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানই একমাত্র কার্যকর পথ। এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বর্তমান যুদ্ধবিরতিকে 'খুবই ভঙ্গুর' বলে মন্তব্য করেছে চীন। পরিস্থিতি শান্ত করতে অবদানও রাখতে চায় দেশটি। এ জন্য যেকোনো ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধি বা যুদ্ধবিরতি নস্যাৎ করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।
আলজাজিরার খবরে সোমবার বলা হয়, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এক টেলিফোন আলাপে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দারের সঙ্গে এ মন্তব্য করেন বলে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
ওয়াং ই বলেন, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো 'কঠোর প্রচেষ্টায় অর্জিত এই যুদ্ধবিরতির গতি বজায় রাখা'। তিনি আরো বলেন, সংঘাত নিরসনে পাকিস্তান বড় ভূমিকা রাখলে চীন তা স্বাগত জানাবে। পাশাপাশি পরিস্থিতি শান্ত করতে বেইজিংও নিজেদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় অবদান রাখতে প্রস্তুত রয়েছে।
Comments